ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র রাজনীতির গৌরব যেন ম্লান না হয়


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-02-15 18:58:39 BdST | Updated: 2019-04-23 18:51:33 BdST

আলী রিয়াজ: ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির গৌরবময় ঐতিহ্য আছে। ডাকসু দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রাম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের নেতৃত্ব দিয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচনে যেন সেই অতীত ঐতিহ্য ম্লান না হয়। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমার প্রত্যাশা, সব শিক্ষার্থীর শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে যেন ভোট অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ডাকসুর নির্বাচিত সাবেক ভিপি, রাজনীতিবিদ সুলতান মনসুর বলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে শূন্যতা চলছে দীর্ঘ সময় ধরে। দেশের ছাত্রসংসদগুলো অকার্যকর থাকায় এক ধরনের বন্ধ্যত্ব আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই বন্ধ্যত্ব শুধু রাজনৈতিক নেতা সৃষ্টিতে নয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকা-েও শূন্যতা রয়েছে। এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আশার আলো হিসেবে এসেছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে এজন্য বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই। তিনি আরও বলেন, সবার অংশগ্রহণমূলক শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই মূল কথা। কীভাবে সবাই অংশ নিতে পারবে, একটি সুষ্ঠু ভোট হবে, শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে পারবে সেজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভূমিকা নেবে। তারাই ঠিক করবেন কীভাবে ভোট সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। আমাদের সময় হল ও অ্যাকাডেমিক ভবন দুই জায়গায় ভোট কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে যে ভোট কেন্দ্র বিতর্ক চলছে তা নিরসনে সিন্ডিকেট সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নিরপেক্ষ ভোটের জন্য তাদের অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, আমাদের সময় স্লোগান ছিল অস্ত্রমুক্ত ক্যাম্পাস, অনিয়মমুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ নীতির ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত হবে এটাই প্রত্যাশা করি। কারও ভয়ভীতিতে, অস্ত্রবাজিতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ যেন নষ্ট না হয়। নির্বাচনকে ঘিরে দেখছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান চলছে। একে অন্যকে ফুল দিয়ে বরণ করেছে। এই সৌহার্দ্য যেন বজায় থাকে ভোটের পরেও। সব ছাত্র সংগঠনের সৌহার্দ্য, সহাবস্থান ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্য। এমন পরিবেশেই শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলার প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে বলে আমি মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা কাজের অংশ হিসেবে এই নেতৃত্ব ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্র রাজনীতির যে গৌরব সেটা আবার ফিরে আসুক। আমাদের রাজনৈতিক শূন্যতা কেটে যাবে ছাত্র সংসদ সক্রিয় হলে। এই ছাত্র নেতৃত্ব সৃজনশীল, গঠনমূলক কর্মকা-ে নিজেদের নিয়োজিত রাখবে। যেটা আমরা অতীতেও দেখেছি। ছাত্র নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন। প্রশাসনিক কর্মকান্ডে সহযোগিতা করবেন। তিনি বলেন, অতীতের সব নির্বাচন ছিল অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক। এই নির্বাচনটাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অবাধ ভোট উৎসব হবে এমনটি প্রত্যাশা করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে নেতা নির্বাচিত করবেন। কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা যেন আমাদের ঐতিহ্যকে ম্লান করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।