‘বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ২০ বছর আগেই দেশ উন্নত হতো’


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-08-27 00:43:43 BdST | Updated: 2019-11-15 00:10:56 BdST

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে আরও ২০ বছর আগেই দেশ উন্নত হতো বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর বড় চারিত্রিক বৈশিষ্ট, তিনি মানুষকে ভালোবাসতেন। পুরো এশিয়া মহাদেশে যে কয়টি দেশ আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। এটি সম্ভব হয়েছে কারণ আমরা বঙ্গবন্ধুর পথ ধরে চলি। দুর্বৃত্তরা যদি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করত, তাহলে দেশ আরও ২০ বছর আগেই উন্নত হতো।

সোমবার (২৬ আগস্ট) শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ১৫ আগস্ট নিহতেদের রুহের মাগফিরাত এবং সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের সুস্থতা কামনায় মোনাজাত করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু তার সরকারে কৃষি খাতে অনেক জোর দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কৃষি খাতে দেশের অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। বঙ্গবন্ধু কৃষি বিপ্লব করার কারণে জমির খাজনা দিলেন মাফ করে। আমাদের তখন সম্পদ নেই, আয় নেই, রাজস্ব নেই। দেশ যখন কৃষি খাতে বিপ্লব করবে তখন ঘাতকরা তাকে হত্যা করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর চেতনা বেঁচে আছে। একটি চেতনা, একটি স্বপ্ন। আর এই স্বপ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ. কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা একদিনেই হননি। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন পৃথিবীর একমাত্র নেতা যিনি রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী না হয়েও যাই বলতেন, ওই সময় সাড়ে ৭ কোটি মানুষ তাই শুনত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ঘাতকরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুর নাম বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলবে। ওই ঘাতক খুনি মোশতাক আর জিয়ারা জানত না যে মৃত মুজিব আরও বেশি শক্তিশালী।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করার মতো রাজনৈতিক যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা কোনোটাই আমার নেই। আমরা জানি, বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে আমাদের রাষ্ট্র অস্তিত্বের সংকটে পড়েছিল। এই সংকট থেকে তুলে এনেছিলেন তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের অর্থনীতির মুক্তির বিষয় প্রথম গুরুত্বারোপ করেন। বঙ্গবন্ধু না থাকলে বাংলাদেশ থেকে ভারতের সামরিক ঘাঁটি উঠানো সম্ভব ছিল না। স্বাধীনতার একবছরের মধ্যে তিনি আমাদের দেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন। সেক্যুলারিজমকে যদি সংবিধানে না নিয়ে আসতেন তাহলে বাংলাদেশে পাকিস্তানের মতো অবস্থা হতে পারত। বঙ্গবন্ধু না থাকলে বাংলাদেশকে আজও পাকিস্তানের অংশ হয়ে থাকতে হতো। বঙ্গবন্ধুর ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না।

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলা কঠিন। আমি যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বর কথা বলি তখন বাংলাদেশের কিংবদন্তী নেতৃত্বে যারা ছিলেন তাদের কথা চলে আসে। বঙ্গবন্ধু তার নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য জাতির স্বার্থকে কখনো বিসর্জন দেননি। এজন্য তিনি জাতির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি।

বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেজবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা বাঙালি অনেক কিছুই করে থাকি, এই ঘটনাটি বিশ্বের ইতিহাসে মর্মান্তিক। এই ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন। এরপর হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে না— এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার কিছু বিচার হয়েছে। কেউ কেউ পলাতক আছে, কিন্তু এদের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল এই বিষয়ে কি আমরা জানতে পেরেছি? আমি আজ দাবি করছি, সম্পূর্ণ ঘটনা তদন্ত করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠন করা হোক।

স্বাগত বক্তব্যে সমিতির সেক্রেটারি বেনজির আহমেদ বলেন, কুচক্রী দল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে দিয়ে তার আদর্শকে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল কুচক্রীরা। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যে কেউ হত্যা করবে, এটা অকল্পনীয়। যারা মেরেছে, তারা পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, তারা বাঙালি না।

অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ( ইউল্যাব) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সহসভাপতি ড. কাজী আনিস আহমেদ।

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সেক্রেটারি বেনজির আহমেদ, ইউল্যাবের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বিশেষ উপদেষ্টা অধ্যাপক ইমরান রহমান, ইউল্যাবের উপাচার্য প্রফেসর এইচ এম জহিরুল হক, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আলী নকি, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম লুতফর রহমানসহ অন্যরা।