ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৌকার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


ঢাবি টাইমস
Published: 2020-01-30 03:30:16 BdST | Updated: 2020-10-21 22:50:04 BdST

নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কোনো ‘উইপোকার’ জায়গা রাখবেন না বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ–মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। বলেছেন, তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে নগর ভবন শুধু মন্ত্রী-সাংসদ বা মেয়র-কাউন্সিলরদের জন্য খোলা থাকবে না, বরং ঢাকাবাসীর জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় শেখ ফজলে নূর এসব কথা বলেন। তাপসের সমর্থনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় অংশ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আক্ষেপ করে বলেছেন, “আমি পদ্মা সেতু করছি, মেট্রোরেল করছি, এতগুলো উড়ালসেতু করলাম, এত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলাম, তবু দেখি আমার প্রকল্পের টাকা উইপোকারা খেয়ে নেয়।” ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আমরা কোনো উইপোকার জায়গা রাখব না।’


তাপস বলেন, ‘সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বায়ত্তশাসিত সেবা প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে নিজের পায়ে দাঁড় করাব। পুরোনো পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কার্যকরের মাধ্যমে সামাজিক ব্যাধি মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক বিষয়ের এলাকাভিত্তিক সমাধান করে তরুণ প্রজন্মকে আমরা খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সংস্কৃতিচর্চায় নিবেদিত করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলব।’

নির্বাচিত হলে ঢাকার উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ ফজলে নূর বলেন, ‘ঢাকার অন্যান্য সংস্থায় যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের কঠোর আইন ও নীতিমালার আওতায় এনে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাঁদের প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ দেব। পয়লা বৈশাখের আগে তাঁদের থেকে আমরা চাহিদাপত্র নেব এবং সে অনুযায়ী তাঁদের এলাকা পুনর্বিন্যাস করে দেওয়া হবে, যাঁর মাধ্যমে তাঁরা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবেন। কোনো এলাকা বা জায়গায় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে গেলে সেখানে পরবর্তী অন্তত তিন বছর আর কাজ করতে দেওয়া হবে না।’

ফজলে নূর বলেন, ‘আমাদের জনদুর্ভোগ অনেক হয়েছে, ঢাকায় নতুন করে আর কোনো জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে দেব না। আমরা ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করব, যার মাধ্যমে ঢাকাকে উন্নত ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলব, জলাবদ্ধতা নিরসন করব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের মাধ্যমে ক্যাম্পাস এলাকার রাস্তাঘাট, অবকাঠামোসহ যা যা উন্নয়ন প্রয়োজন, সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে সেগুলো বাস্তবায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান-মর্যাদা ও ঐতিহ্যকে আমরা ফিরিয়ে আনব।’

নৌকার প্রার্থী তাপস আরও বলেন, ‘সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই দিন মেয়র সরাসরি ঢাকাবাসীকে সাক্ষাৎ দেবেন এবং তাঁদের সমস্যা সমাধান করবেন। এভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে আমরা ঢাকাবাসীর কাছে দায়বদ্ধ করব। আমাদের দায়বদ্ধতা ঢাকাবাসীর কাছে, আমাদের দায়বদ্ধতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।’

একমাত্র নৌকাই উন্নত ঢাকা গড়ে তুলতে পারে উল্লেখ করে তাপস বলেন, ‘আমরা যখন বের হই, ঘটনাস্থলে কখন পৌঁছাব, কেউ বলতে পারে না। আমাদের এই অচল ঢাকাকে আমরা করতে চাই সচল ঢাকা। ঢাকায় কিছু সড়ক হবে, যেখানে শুধু দ্রুতগতির যানবাহন চলবে। কিছু সড়কে ধীরগতির যানবাহন চলবে। কিছু সড়ক আমরা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে হেঁটে হেঁটে পাড়ি দেব। কিছু সড়কে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাব। এভাবেই আমরা সচল ঢাকা গড়ে তুলতে চাই।’

মতবিনিময় সভায় ফজলে নূরসহ আওয়ামী লীগ–মনোনীত সব প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এখানে আমরা যাঁরা আছি, আমাদের সবার আদর্শ ও উদ্দেশ্য এক এবং একটিই কাজ—আগামী ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নৌকার প্রতীকসহ যেসব প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচন করছেন, সবাইকে সহযোগিতা করা। সব ভোটারের ঘরে যেন আওয়াজ ওঠে, নৌকা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়নের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে চলেছেন, সেই অগ্রযাত্রা যেন সারা বাংলাদেশে পৌঁছে যায়।’

প্রক্টর আরও বলেন, ‘আমাদের মনোনীত প্রার্থী অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনসম্পৃক্ততায় সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। কোনো অর্বাচীনের ঢাকা শহরকে নিয়ন্ত্রণ করার বুদ্ধি ও মেধা-যোগ্যতা এখনো হয়ে ওঠেনি। তাঁদের এখন শেখার বয়স। দায়িত্ব নেওয়ার বয়স তাঁদের, যাঁরা ইতিমধ্যে জনগণকে সেবা দিয়ে আরও সেবা দেওয়ার দক্ষতা, মানসিকতা ও সততায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুতরাং সুন্দর ঢাকা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমাদের দায়িত্ব, আমাদের প্রিয় প্রার্থী ব্যারিস্টার তাপসকে জিতিয়ে আনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণে তিনি ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী মেয়র হবেন, এই কথাটি আমরা ভাবতেই পারি না। আমরা ইনশা আল্লাহ জয়যুক্ত হব।’

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাংসদ আমির হোসেন আমু সভায় উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিলাল দের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগ-সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের নেতা জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখার নেতা-কর্মীসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।