ভিন্ন একজন রাজনৈতিক কর্মী


টাইমস ডেস্ক
Published: 2020-04-12 20:02:14 BdST | Updated: 2020-08-15 02:15:01 BdST

পত্রিকা-টেলিভিশন-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সর্বত্র আলোচনার বিষয়বস্তু করোনা ভাইরাস। সাথে যুক্ত হয়েছে সরকারি ত্রাণের চাল চুরির সংবাদ। ত্রাণ নিয়ে অনিয়মের সাথে জড়িতদের প্রায় সবাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। অভিযোগ আছে অনেক ক্ষেত্রেই জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন না। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে।

দেশের প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গেল ৮ই মার্চ। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নাগরিকদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। আর মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে সংগঠিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছে নরসিংদীর পলাশের ৮ টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। করোনা ভাইরাস সক্রমণের হটস্পট বলে খ্যাত নারায়ণগঞ্জের পাশ্ববর্তী জেলা হলেও নরসিংদীতে এখনো ব্যাপক আকারে ছড়ায়নি করোনা ভাইরাস।

নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলা এলাকার নাগরিকদের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের হোম ডেলিভারি চালু করেছে স্বেচ্চাসেবী সংগঠন পলাশ ক্লাব। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পলাশ ক্লাবের নেতৃত্বে স্মাইল, দুরন্ত পলাশ, উদ্দীপ্ত তারুণ্য, বিডি ক্লিন, পলাশ উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাব, পলাশের পাপড়ি ও ফ্রেন্ডস জাগরণী সংসদের ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন এলাকার শতাধিক পরিবার এই সেবা নিচ্ছেন।

সংগঠনগুলো গত ২৪ মার্চ থেকে এপর্যন্ত দুই লাখ লিটার জীবানুনাশক ছিটিয়েছে। এলাকার সকল গণপরিবহন ও মসজিদ জীবাণুমুক্ত করেছে। মসজিদ গুলোতে হাত ধোয়ার জন্য হ্যান্ড ওয়াস সরবরাহ করেছে।

এই পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পলাশ ক্লাবের সভাপতি আল মুজাহিদ হোসেন তুষার। তিনি বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এস্যোসিয়েশনের পরিচালক। স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত আছেন।

ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে তিনি জানান, দেশে করোনা ভাইরাসের রোগী পাওয়া যাবার পরপরই অন্যান্য দেশগুলোর অবস্থা দেখে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিৎ বলে মনে করি। দ্রুতই আমরা সিদ্ধান্ত নেই ইফেক্টিভ কিছু করার। এর ফল আমরা পেয়েছিও। নারায়ণগঞ্জের লাগোয়া উপজেলা পলাশ হলেও সংক্রমণের দিকে আমরা এখনো ভালো অবস্থানে আছি; যোগ করেন তুষার।

সাধারণ ছুটি ও লকডাউনের জন্য সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে হতদরিদ্র মানুষ। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য সংকট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। মুজাহিদ তুষার ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এই কার্যক্রম চলমান থাকবে করোনার প্রভাব যতোদিন শেষ না হবে বলেও জানান তিনি। রমজানে আরো বড় পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছেন বলেও জানান তুষার। এছাড়া পলাশ উপজেলায় কাজ করেন এমন পুলিশ সদস্য, ডাক্তার ও সাংবাদিকদের মধ্যে পিপিই বিতরণ করেছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেছে সাড়ে চার হাজার। মাস্ক বিতরণের কার্যক্রমও চলমান আছে বলে জানান।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করলেও মুজাহিদ তুষার মনে করেন তৃণমূল পর্যায় থেকেই ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়ের প্রয়োজন। বলেন, 'দেশের নানা প্রান্তে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে।তবে এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মনিটরিং করা হলে একজন সাধারণ বেশি পরিমাণে খাদ্য পাবে এবং বাদ যাবেনা কেউ। খাদ্য প্রতিটি দরিদ্রের ঘরে পৌঁছানো নিশ্চিত করাও সম্ভব হতো।'

মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ সহযোগিতা নিতে লজ্জা পায় উল্লেখ করে বাজার মূল্যের অর্ধের দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রির পরিকল্পনার কথা জানান। বলেন, 'করোনার প্রভাব দীর্ঘ হতে পারে। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের হাতে জমানো টাকা একসময় শেষ হয়ে গেলে সংকট আরো বাড়বে। তাই চিন্তা করছি তারা যেহেতু সাহায্য নিতে আসবে না তাদের জন্য অর্ধেক দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করবো। মানে বাকিটা আমার ভর্তুকি থাকবে।'

রমজানে আরো ব্যাপক পরিসরে কাজ শুরু করতে চান জানিয়ে এই যুব নেতা বলেন, একই ধারণা বা আরো গঠনমূলক পরিকল্পনা নিয়ে যুবকদের এগিয়ে আসা উচিৎ। সম্মিলিত কাজের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের এই বহুমুখী সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।