ভিপি নূরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি তুরিন আফরোজের


Dhaka
Published: 2020-10-14 08:04:11 BdST | Updated: 2020-10-20 02:57:21 BdST

ধর্ষণ মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ বলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তুরিন আফরোজ।

ফেইসবুক লাইভে এসে ধর্ষণ মামলার বাদীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ আখ্যায়িত করায় কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর। ওই বক্তব্যের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তারের দাবিও উঠেছে একটি সমাবেশ থেকে।

তার এই বক্তব্যের সমালোচনা চলছে নানা মহল থেকে। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে বিকালে রাজু ভাস্কর্যে অনশনরত ওই ছাত্রীর সাথে সংহতি জানিয়ে সেখানে সমাবেশে মিলিত হন যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী জোট, পূর্ণিমা রানী ফাউন্ডেশন, ঐক্য একাত্তরসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নূরের এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সমাবেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, “আমরা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আইন পেতে যাচ্ছি। কিন্তু শুধু আইন করেই সব কিছু হয় না৷ আইনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন দরকার। যেখানে আমরা একজন নির্যাতিত নারীর পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি, সেখানে একজন নির্লজ্জ কুলাঙ্গার তাকে চরিত্রহীন বলছে৷

“এই যে ধৃষ্টতা সে দেখাচ্ছে, সেই নুরুলের সাহস আসলে কোথায়? আমি জানি, আইন তার নিজের গতিতে চলবে৷ একজন নির্যাতিত নারীকে দুশ্চরিত্রা বলার দায়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আটক করা না হলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।”

সমাবেশে যোগ দিয়ে যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী জোটের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান বলেন, “নুরুল সেই সমাজের প্রতিনিধি যে সমাজ নারীকে ঘরে বন্দি করতে চায়৷ সরকার ঠিক কিসের ভয়ে নুরুলসহ ধর্ষকদের কেন গ্রেপ্তার করছে না? ধর্ষণের বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল করতে হবে, প্রত্যেক থানায় নারী সেল গঠন করতে হবে, আইন সংশোধন করতে হবে৷”

অবিলম্বে নূরের গ্রেপ্তার দাবি করে ‘অপরাজেয় বাংলা’ নামের সংগঠনের সদস্য সচিব এইচ রহমান মিলু বলেন, “ধর্ষণের এই ঘটনা নিয়ে অপরাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে৷ ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে থাকলে নুরুল কেন নয়? নুরুলের ক্ষেত্রে কেন আইনের শাসন কাজ করে না? সে কি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী নাকি প্রধান বিচারপতি? নুরুলের পক্ষে এখন জামায়াত ও বিএনপি কাজ করছে। সব ধর্ষক গ্রেপ্তার হয়, নুরুল কেন গ্রেপ্তার নয়?”

গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক নবেন্দু নির্মল সাহা বলেন, “নারীকে চরিত্রহীন বলে ব্যারিস্টার মাইনুল হোসেনকে যদি জেলে যেতে হয়, তাহলে একই অপরাধে নুরুকে গ্রেপ্তার কেন নয়?”

সমাবেশে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে ধর্ষণের শিকার পূর্ণিমা রাণী শীল বলেন, “নিপীড়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্ষককে জুতাপেটা করে শাস্তি দেওয়া উচিত। এখনও মামলার জন্য মাঝেমধ্যে আমাকে আদালতে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। আমি তার (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী) পাশে আছি। নুরুলসহ সব আসামিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে৷”

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে অভিবাসীদের প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় গত অগাস্টে সেদেশে কারাবরণ করতে হয়েছিল রায়হান কবিরকে।

এই সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “আমি মালয়েশিয়ায় বাংলার মেহনতি মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কারাভোগ করেছি, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। আজকে সেই আমাকেই নিজের দেশে ব্যানার হাতে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে। দেশে ধর্ষণের পরিসংখ্যান দেখে হতভম্ব ও লজ্জিত হই। আমিও পুরুষ, লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে৷

“সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি সব ধরনের ধর্ষকদের বিরুদ্ধে। যখন যৌক্তিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক মোড়ক দেওয়া হয় তখন আমার কষ্ট হয়। ধিক্কার জানাই, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুলকে, যিনি লাইভে এসে নির্যাতিত ছাত্রীকে নিয়ে খারাপ কথা বলেছেন। এটা পটেনশিয়াল ধর্ষকের লক্ষণ৷”