ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মশাল মিছিল


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Published: 2020-10-14 21:00:04 BdST | Updated: 2020-10-22 06:52:29 BdST

বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার আসামী নুরুল হক নুর গংসহ সম্প্রতি সংঘটিত সকল ধর্ষণের সাথে জড়িত সকল ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে শাহবাগ অভিমুখে মশাল মিছিল কর্মসূচী পালন করছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সমাজে ধর্ষকদের কোন স্থান নেই। এরা দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ। এদেরকে শক্ত হাতে দমন করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে যাতে কখনোই এরকম ঘৃণ্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি না হয়। সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সেই নির্যাতিত ঢাবি ছাত্রী ইতিমধ্যে সুবিচার পাওয়ার জন্য থানায় মামলাও করেছেন। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় এই যে, নোয়াখালী, সিলেট ও সাভারে নারী ধর্ষণে জড়িত সকল ধর্ষকদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হলেও ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলার মূল আসামী হাসান আল মামুন ও নুরুল হক নুর দেরকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি যা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই মামলার আসামী নুরুল হক নুর গংরা বীর দর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ধর্ষিত মেয়েটির চরিত্র হনন করে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি করে যাচ্ছে যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আসামীদের এরকম ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের কারণে মেয়েটি সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়ে ইতিমধ্যে সে সংবাদ সম্মেলন করে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে এবং ধর্ষণের বিচার পাওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বসে অনশন কর্মসূচী পালন করছে যা রাষ্ট্রের জন্য খারাপ বার্তা বয়ে আনছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলঙ্ক নুরুল হক নুর ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই মেয়ে সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করার মাধ্যমে পুরো নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। বিচার প্রার্থী মেয়েটিকে কটূক্তি করে নুরু প্রমাণ করেছে সে কতোটা অমানুষ, নোংরা ও মানসিক রোগী।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা, ধর্ষণ পরবর্তী সামাজিক ভাবে হেয় করা ও হুমকি দেয়া ইত্যাদি অপরাধের মাত্রাকে আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। আইনের দৃষ্টিতে এরা সকলেই সমান অপরাধী। ঢাবি ছাত্রী কর্তৃক লালবাগ থানায় মামলা করার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও ধর্ষণ মামলার মূল আসামী হাসান আল মামুন-নুরুল হক নুরকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। অথচ কিছুদিন আগে সাভারে একই ধরনের ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পরপরেই তাৎক্ষণিকভাবে ধর্ষক প্রেমিক ও ধর্ষণে সহায়তাকারী প্রেমিকের বন্ধু মোট ছয় (৬) জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। কেউ আইনের উদ্ধে নয়। ধর্ষণ মামলার আসামী নুরুল হক নুর গং দেরকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার না করার কারণে ছাত্রসমাজসহ দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছে।

.

"বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদতে পারে না। গতকাল নুরুর সমর্থকরা একাত্তর টিভি একজন সাংবাদিককে হেনস্তা করেছে। একজন সাংবাদিককে হেনস্তা করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় নুরু গংরা কখনোই সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করে না। এরা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি পাকিস্তানীদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। একজন নারীকে কটূক্তি ও সাংবাদিককে হেনস্তা করার মাধ্যমে নুরু গংরা পুরো নারী ও সাংবাদিক সমাজকে অপমান করেছে বলে আমরা মনে করি। নুরু গংদের এরকম ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। আমরা অবিলম্বে ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামী নুরুল হক নুরকে গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছি। নারী সমাজকে কটূক্তি, সাংবাদিককে হেনস্তা করার অপরাধে ধর্ষণ মামলার আসামী নুরুল হক নুরকে পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার না করলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সমগ্র দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।"

"পাশাপাশি ছাত্রফ্রন্ট নেতা কর্তৃক গাঁজার পার্টিতে তরুণীকে ধর্ষণ, সিপিবি নেত্রী জলি তালুকদারকে নিজ দলের নেতা কর্তৃক যৌন নিপীড়ন ইত্যাদি ঘটনায় জড়িতদেরকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কোন ধর্ষকের জায়গা বাংলাদেশে হবে না। সকল ধর্ষকদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনের নামে শাহবাগে বামাতি-জামাতি মৌলবাদী অপশক্তি কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করা হয়েছে। অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও শিষ্টাচার বহির্ভূত ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করা হয়েছে। মুজিব কোট ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি পোড়ানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।"

"একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কুশপুত্তলিকা দাহ করাই প্রমাণ করে এরা কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। এরা একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির বংশধর। বামাতি-জামাতি মৌলবাদী অপশক্তির এসব ঘৃণ্য অপকর্মই প্রমাণ করে এরা কখনোই ধর্ষণের বিচার চায় না। এদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকার পতনের আন্দোলন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের নামে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী এহেন কর্মকাণ্ড কখনোই বরদাশত করবে না মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ দেশব্যাপী আরোও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে।"

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর ৫ দফা দাবিসমূহ:

১। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করে কটূক্তি ও সাংবাদিককে হেনস্তা করার অপরাধে ধর্ষণ মামলার আসামী নুরুল হক নুরকে গ্রেফতার করে আইনের এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

২। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ মামলার সকল আসামীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।

৩। ঢাবির ছাত্রী ধর্ষণ, ছাত্রফ্রন্টের নেতা কর্তৃক তরুণী ধর্ষণ ও সিপিবির নেতা কর্তৃক সিপিবির নেত্রী জলি তালুকদারকে যৌন নিপীড়ন ইত্যাদি ঘৃণ্য অপরাধের সাথে জড়িত সকলকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।

৪। ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত নারী নিপীড়ক জঙ্গী সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদকে আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৫। শাহবাগে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননাকারী বামাতি-জামাতি মৌলবাদী অপশক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।