বাবার জন্য ভোট চেয়ে মেডিকেল ছাত্রী জারিনের বক্তব্যে মুগ্ধ মানুষ


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2017-12-17 23:16:59 BdST | Updated: 2020-10-22 18:43:44 BdST

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার পক্ষে ভোট চাইতে নির্বাচনী পথসভা ও গনসংযোগে তার মেডিক্যাল পড়ুয়া কন্যা জারিন তাসনিমের আবেগমাখা বক্তৃতায় মুগ্ধ মানুষ। মোস্তফার নির্বাচনী প্রচারণায় এ বিষয়টিও মন কেড়েছে সবার।

মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা যেখানেই পথ সভা করছেন সেখানেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মহানগর জাতীয় পার্টির সেক্রেটারী এসএম ইয়াসির, যুগ্ম সম্পাদক হাজি আব্দুর রাজ্জাক ছাড়ও বক্তব্য দিচ্ছেন মোস্তফার দ্বিতীয় কন্যা জানির তাসনিম। তিনি এবার বগুড়া শহীদ মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্রী। মোস্তফার পথ সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জারিন অত্যন্ত সাবলীল ভাবে আবেগঘন বক্তব্য দিচ্ছেন।

জারিন পথসভাগুলোতে বলছেন, আমি মোস্তফার মতো একজন মানুষের সন্তান হয়ে নিজেকে গর্ববোধ করি। কারণ তিনি আমাদের থেকে আপনাদের জন্যই বেশী সময় ব্যয় করেছেন। তবুও যতটুক সময় তিনি আমাদের দেন, তাতেই আমরা তার দায়িত্ব ও মমত্ববোধে ধন্য, গর্বিত। আমাদের অর্থের অভাব থাকলেও সুখের অভাব থাকে না তার মায়ার বাঁধনে থাকার কারনে।

জারিন বলেন, আমি শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে আমি তার সন্তান হিসেবে যেভাবে নিজেকে গর্বিত মনে করি, ঠিক তেমনি আপনারা তাকে নির্বাচিত করলে পুরো মহানগরবাসি গর্বিত হবেন। আমি কন্যা হয়ে সেই সাক্ষ্য দিচ্ছি।

জারিন বলেন, আপনারা আমার পিতাকে মাটি ও মানুষের নেতা উপাধি দিয়েছেন। এটা যখন আমরা ঘরে বসে আলোচনা করি। তখন তা আমাদের কাছেও পরিস্কার হয়ে যায়। কারণ তিনিই সেই নেতা যিনি যাদের ঘামের গন্ধে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, তাদের সাথে মিলে মিশে আজকের এই অবস্থানে এসেছেন।

জারিন বলেন, আপনাদের কাছে একটা জিনিস প্রমাণিত হয়ে আছে, নির্বাচন আসলে নেতারা এক ধরণের থাকেন। আর নির্বাচনের পর সেই নেতারা অন্য ধরণের হয়ে যান। আমি মোস্তফার কন্যা হিসেবে আপনাদের ওয়াদা দিচ্ছি, আমার পিতা মোস্তফাকে বিজয়ী করলে আপনাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হবে। রাজনীতিতে একটা সিগনাল যাবে। আপনারা আমার পিতাকে নির্বাচনের আগে যেমন পেয়েছেন। ভোটের পরেও একই ধরণের পাবেন। কন্যা হিসেবে আমি সেই সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনাদের কাছে।

জারিন তাসনিম তার বক্তৃতার সময় বার বার মো. মোস্তফাফিজার রহমান মোস্তফা কথাটি উল্লেখ করে বলেন, আমার পিতার কাছে রাত নাই। দিন নাই। যখনই আপনাদের কোন সমস্যা তখনই তিনি ছুটে গেছেন। যদি তিনি ক্ষমতা পান, তাহলে সেই ক্ষমতাকে নিজের নয়, আপনাদের সেবায় নিয়োজিত করবেন। এছাড়াও জারিন তার পিতাকে বিশ্লেষন করে নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে বিভিন্নভাবে মানুষের কাছে লাঙ্গলে ভোট প্রার্থনা করছেন।

পথসভাগুলোতে জারিনের বক্তব্য চলাকালীন সময়ে পড়ছে মুহুর্মুহ করতালি। মানুষ মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনছেন। আকৃষ্ট হচ্ছেন মোস্তফার প্রতি। বিষয়টি রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনী প্রচারণায় একটি নতুন উদ্যোগ। কন্যা নয়, প্রতিটি পথসভায় মোস্তফার পাশে থাকছেন তার পিতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মামদুদুর রহমান। অনেক জায়গায় তিনিও বক্তব্য দিচ্ছেন আবেগঘন।

প্রসঙ্গত: আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই ভোট। প্রথমবার ভোট হয়েছিল ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর। ওই নির্বাচনে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে ২৮ হাজর ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু। এবার মোস্তফা জাতীয় পার্টির এবং ঝন্টু আওয়ামীলীগের প্রার্থী।

 

এমএসএল