শিক্ষামন্ত্রী ভয়ঙ্কর বার্তা দিলেন: রিজভী


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2017-12-25 17:39:09 BdST | Updated: 2020-10-22 18:56:06 BdST

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ‘সহনীয় মাত্রায় ঘুষ নিতে বলে’ দেশের শিক্ষাঙ্গনে একটি ‘ভয়ঙ্কর বার্তা’ পাঠিয়েছেন।

সোমবার ঢাকার নয়া পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “দেশের শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য যদি এটাই হয়, তাহলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সততা-নৈতিকতার পাঠ কোথা থেকে নেবে? এ রকম বক্তব্য দিয়ে তিনি এক ভয়ঙ্কর বার্তা পাঠালেন শিক্ষাঙ্গনে।

“তার বক্তব্যে এটাই ফুটে উঠছে যে- কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা, তোমরা নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ এবং ন্যায়বোধের বিবেক শাসিত উন্নত মানুষ হওয়ার বদলে সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতির পাঠ নিতে শেখো। তাহলেই তোমাদের সাফল্য আসবে।”

এই বিএনপি নেতার ভাষায়, শিক্ষামন্ত্রীর কথাতেই ‘প্রমাণ’ হয় যে বর্তমান সরকার ‘আত্মস্বীকৃত চোর ও দুর্নীতিবাজ’।

“দেশে যে জঙ্গলের শাসন চলছে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। দেশে বিদ্যমান নৈরাজ্যকর অমানিশার মধ্যে তার এহেন বক্তব্য দেশের জন্য আরও ভয়াবহ উদ্বেগ, ভয়, বিপদের কারণ হতে পারে।’’

শিক্ষা ভবনে রোববার পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তাদের ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষমন্ত্রী নাহিদ দুর্নীতি প্রসঙ্গে ঘুষ নিয়ে ওই মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “সব জায়গায় যে বলছি, অপচয়-দুর্নীতিতে আমরা কঠোর অবস্থান নেব এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমাদের জিরো টলারেন্স। এটা আমাদের বলতে হবে… কিন্তু আমি ইডির (ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট) সভায় বলেছি, আপনারা দয়া করে ভালো কাজ করবেন। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনার ঘুষ খাবেন, তবে সহনশীল হইয়্যা খাবেন। অসহনীয় হয়ে বলা যায়, আপনারা ঘুষ খাইয়েন না, এটা অবাস্তবিক কথা হবে।”

অবশ্য পরে নাহিদের দপ্তর থেকে জানানো হয়, মন্ত্রীর ‘খণ্ডিত’ বক্তব্য প্রচার হওয়ায় ‘বিভ্রান্তি’ সৃষ্টি হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্তকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসলে আগের মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নেওয়ার পর শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ এবং ডিআইএ’র কী অবস্থা ছিল, তাই বক্তব্যে বর্ণনা করেছেন মন্ত্রী।”

এর প্রতিক্রিয়া জানাতে সোমবার বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে রিজভী বলেন, “একজন মন্ত্রী যখন জাতির মেরুদণ্ডটি নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনিই যখন অনৈতিক কথা বলেন, তখন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র কাঠামো আছে বলে আর মনে হয় না।”

সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় সব পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীর কথায় মনে হয়েছে, তিনিই সব কেলেঙ্কারির উৎসাহদাতা।”

‘সরকারই চেয়েছে চালের দাম কিছুটা বাড়ুক’- এমন বক্তব্যের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতেরও সমালোচনা করেন রিজভী।

তিনি বলেন, “অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের চরম গণবিরোধী রূপ আবারও প্রকাশিত হল। জনগণের লুটপাটে উৎসাহিত হয়ে সরকার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে দ্বিধা করছে না। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের এ নীতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবুল কালাম সিদ্দিকী, মীর সরফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

বিডিবিএসস