সরকারকে যেসব শর্ত দিয়েছে বিএনপি


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-05-21 11:15:57 BdST | Updated: 2018-10-24 01:34:18 BdST

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে বিএনপি। কেবল বেগম জিয়ার মুক্তিই নয়, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারও চায় দলটি। এ ছাড়াও সরকারকে একগুচ্ছ শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— বেগম খালেদা জিয়াসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও সব রাজবন্দীর মুক্তি। নির্বাচনের অন্তত এক সপ্তাহ আগে সেনা মোতায়েন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি। তফসিলের আগেই সংসদ ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। ২০০৮ সালের আগে নির্ধারিত সীমানায় নির্বাচন দেওয়া। এসবের ব্যত্যয় ঘটলে নির্বাচনকে ‘না’ও করতে পারে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায়ের পরিকল্পনা আছে বিএনপির। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা অবশ্য জানান, সরকার যদি সত্যিকারার্থে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করতে চায়, তাহলে বিএনপিও সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করবে। বিএনপি চায়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে একটি জাতীয় সংলাপ হোক। সেখানে সব পক্ষ বসলেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের উপায় বের হবে। সরকার যদি কিছুটা ছাড় দেয় বিএনপিও একই অবস্থানে বসে থাকবে না। কিন্তু সরকার এগিয়ে না এলে বিএনপি তার অবস্থানেই থাকবে।

আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করে নির্বাচনে যাবে বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘যদি রাজপথের সব বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন না হয়, বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্তি দেওয়া না হয়, যদি সংসদ ভেঙে দেওয়া না হয়, যদি সেনাবাহিনী মোতায়েন না হয় তাহলে আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। সেই নির্বাচনে বিএনপিও যাবে না।’ দলীয়

সূত্র জানায়, একাদশ নির্বাচনের তফসিলের আগ মুহূর্তে সরকারকে বড় ‘ধাক্কা’ দিতে চায় বিএনপি। সরকার নমনীয় না হলে সেপ্টেম্বর থেকেই ফের হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি জোট। তবে এর আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে রাজপথে নরম কর্মসূচির পাশাপাশি আইনি লড়াই চলবে। বিএনপি মনে করছে, সরকারকে চাপে রাখতে পারলে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সব দাবি আদায় সম্ভব। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতিও থাকবে দলটির। তিন ধাপে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়ার দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অবশ্য বলেন, ‘এককভাবে আইনি লড়াইয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনতে সুবিধাজনক হবে না। আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনের বিকল্প নেই। আমাদের এখন ধীরে ধীরে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করতে হবে। ঈদের পরে এ বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।’ বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা অবশ্য এখনই কঠোর কর্মসূচির পক্ষে। তারা চান, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। প্রয়োজনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগের মতো টানা আন্দোলনে যেতে চান তারা। ২০ দলীয় জোটের বাইরে অন্যান্য দলের সঙ্গেও রাজনৈতিক সমঝোতার পক্ষে তারা। বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্র যখন যে সিদ্ধান্ত দেবে তা পালনে তৃণমূল সবসময় প্রস্তুত। প্রয়োজনে ’৯০-এর মতো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’

জানা যায়, এরই মধ্যে তৃণমূলে হোমওয়ার্ক করছে বিএনপির হাইকমান্ড। কেন্দ্রের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দূরত্ব কমাতে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গেই কথা বলছেন। যে কোনো মূল্যে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্য চায় দলের হাইকমান্ড। বিশেষ করে আসন্ন দুই সিটি নির্বাচন গাজীপুর ও খুলনায় দায়িত্বরত নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছেন তারেক রহমান।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।