কে হচ্ছে নেত্রকোনা-০১আসনে নৌকার কান্ডারী?


নেত্রকোনা টাইমস  
Published: 2017-07-20 22:20:33 BdST | Updated: 2018-01-17 07:14:04 BdST

জাতীয় নির্বাচন যতই নিকটবর্তী হচ্ছে,নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ ততই বাড়ছে।পাড়ার চা এর স্টল থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,খেলার মাঠ সর্বত্র এখন আলোচনায় ঘুরেফিরে নির্বাচনের প্রসঙ্গ চলে আসে।কোন্ দল থেকে কে হচ্ছে আওয়ামীলীগের প্রার্থী, কার সম্ভাবনা কতটুকু ইত্যাদি চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন সাধারণ ভোটার ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।গত নির্বাচনে বি এন পি অংশগ্রহণ না করায় এক্ষেত্রে বি এন পির প্রার্থীতা নিয়ে অতটা কৌতুহুল নেই সাধারণ ভোটারদের মধ্যে।জেলার ১ নং আসন হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ আসন নেত্রকোনা-০১ আসনটি।

এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন অনেকেই,তবে মূল আলোচনায় আছেন বর্তমান এমপি ছবি বিশ্বাস,সাবেক এমপি জালাল তালুকদারের ছেলে কুতুবুদ্দিন তালুকদার রুয়েল,মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস ঝুমা তালুকদার,সাবেক এমপি মোস্তাক আহমদ রুহী।কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বর্তমান সাংসদ ছবি বিশ্বাস একজন ভদ্র মানুষ হিসেবে এলাকায় তাঁর খ্যাতি রয়েছে।

তাছাড়া নিরহংকারী হওয়ায় তাঁর সময়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের নেতারা মোটামুটি মূল্যয়িত হয়েছে বলে জানান দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র এক নেতা।তবে দুই উপজেলায় তাঁর ঘনিষ্ঠ কিছু লোকের ব্যাপারে আপত্তি আছে সাধারণ জনগনের মধ্যে।জানা যায় তাঁর সময়ে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা দুটি উপজেলাতেই অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে।তবে এলাকার প্রধান দুটি সড়কের বেহাল অবস্থার জন্য অখুশিরর কথা জানান স্থানীয় এক ভোটার।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাংসদের এক ঘনিষ্ঠজন বলেন,আগেকার এমপির সময়ে রাস্তাগুলোর তেমন কোন কাজ হয়নি,যাও হয়েছিল তার গুনগত মান খুব খারাপ হওয়ায় মাত্র কয়েকদিনেই তা নষ্ট হয়ে যায়।বর্তমানএমপি মোহদয়ের চেষ্টায় দুটি প্রধান সড়কের কাজ শুরু হচ্ছে শীঘ্রই।

তিনি আরও বলেন শ্যমগঞ্জ-দুর্গাপুর রাস্তার কাজ আগামী ২৬ জুলাই উদ্বোধন হবে আর ঠাকুরাকোনা-কলমাকান্দার রাস্তার কাজও শীঘ্রই শুরু হবে।অন্যদিকে গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় রুয়েল তালুকদারকে নিয়েও বেশ আলোচনা আছে এলাকায়।পাশাপাশি সাবেক এমপির ছেলে হিসেবে রুয়েল তালুকদারের নামও শোনা যাচ্ছে।তবে গত নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করা,এই নির্বাচনে তাঁর সহোদর বোন তাঁর বিপক্ষে প্রার্থী হওয়া ও তাঁর বাবার একসময়ের কাছের লোকেরা বর্তমান এমপির সাথে চলে যাওয়া ইত্যাদি কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন পাবেন না বলে মনে করেন অনেকেই।অপর প্রার্থী সাবেক সাংসদ মোস্তাক আহমদ রুহী একসময় এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বি এন পির প্রার্থী বদলের সুবাদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে এমপি হয়েছিলেন তিনি।খোঁজ নিয়ে জানা যায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে"কলমাকান্দার এমপি চাই"এমন একটি স্লোগান সবাইকে আকর্ষণ করেছিল।ফলে প্রথমে আওয়ামীলীগ থেকে দুর্গাপুরের জনপ্রিয় সাবেক সাংসদ জালাল তালুকদারকে প্রার্থী করা হলে বিএনপি কৌশলে তাদের মনোনয়ন সেলিম রেজা খান থেকে পরিবর্তন করে তরুণ আইনজীবি কলমাকান্দার ব্যারিস্টার কাইসার কামালকে মনোনয়ন দেয়।এমতাবস্থায় "কলমাকান্দার এমপি চাই"এটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে নেতৃবৃন্দের এমন মনোভাব থেকে থেকে আসনটি আওয়ামীলীগেরর জন্য ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে যেতে পারে এমন আশংকায় আওয়ামীলীগও তাদের মনোনয়ন পরিবর্তন করে কলমাকান্দার মোস্তাক আহমদ রুহীকে দেয়,সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে আলোচনায় একটি শক্ত অবস্থানে তিনি আছেন।তবে একজন তরুণ এমপি হিসেবে দল,এলাকাবাসী ও দলীয় হাই কমান্ড সেই সময় তাঁর কাছ থেকে যেমনটি প্রত্যাশা করেছিলেন,তা পূরণে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিলেন।তাছাড়া গত নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করা ও নির্বাচনে খুবই অল্প ভোট পাওয়া ইত্যাদি কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন পাবেন কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে।

জালাল তালুকদারের মেয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক ঝুমা তালুকদারও বিভিন্নভাবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন,ব্যানার ফেষ্টুনের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।তবে তাঁকে নিয়ে এখনো মানুষের আগ্রহ ততটা বাড়েনি।এছাড়াও মনোনয়ন চাইবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য রেমন্ড আরেং,যুবলীগ নেতা এরশাদুর রহমান মিন্টু,আফতাবউদ্দিন খান প্রমুখ।তবে অতীতে আওয়ামীলীগের নির্বাচন ও মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতা দেখেছেন,দুর্গাপুর কলমাকান্দার এমন বয়োজ্যেষ্ঠ অভিজ্ঞ কয়কেজন আওয়ামীলীগ নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়,দুই একটি ছোটখাটো অভিযোগ ছাড়া বর্তমান সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাস যে অবস্থানে আছেন,তাতে শেষ পর্যন্ত তিনিই আবারও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে পারেন।

এমএসএল

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।