সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি: ছাত্রীদের আরেক পরিবার


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-01-19 21:02:57 BdST | Updated: 2019-02-17 12:52:39 BdST

আট বছর বিরতির পর পড়ালেখায় ফেরা তো সহজ নয়। জান্নাত আরা ফেরদৌসীর জন্য সেটা ছিল আরও কঠিন।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়েছেন। ভালো ছাত্রী ছিলেন। হুট করে বিয়ে হয়ে গেল বলে পড়ালেখা বন্ধ হলো তখন। আবার যখন পড়বেন বলে ঠিক করলেন, জান্নাতের ঘরে তখন চার বছরের মেয়ে। সংসার সামলানোর গুরুভারও তাঁর কাঁধে। তবু সাহস করে ভর্তি হলেন ঢাকার সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটিতে। শুরুতে নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল না একেবারেই। ভাবছিলেন, আমি কি পারব? শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা পেয়ে জান্নাত যখন ক্লাসে মন দিয়েছেন, মেয়ে আমিরা তখন একটু একটু করে বড় হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়েরই ডে–কেয়ার সেন্টারে। সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির সোশিওলজি অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী জান্নাতের সিজিপিএ এখন ৩.৯৯ (৪–এর মধ্যে)।

রাজধানীর হাটখোলায় অবস্থিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখন ছুটি চলছে। তবু আমাদের অনুরোধে, স্বপ্ন নিয়ের সঙ্গে আড্ডা দিতে গত মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে এসেছিলেন একদল ছাত্রী। লম্বা ছুটি পেয়ে, বাসায় থেকে ছাত্রীরা নাকি হাঁপিয়ে উঠেছেন। ক্যাম্পাসের চেনা পরিবেশে পা রেখেই বুক ভরে দম নিলেন। ‘প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এখানেই তো আমাদের সময় কাটে। বেশি দিন ছুটি কাটাতে ভালো লাগে না। ক্যাম্পাস আর বন্ধুদের মিস করি। বাড়ির বাইরে এটাও তো আমাদের একটা পরিবার।’ বললেন ছাত্রীদের একজন।

এই পরিবার নিয়ে সবার ঝুলিতেই অজস্র গল্প। কারও গল্প অনুপ্রেরণার, কারও বন্ধুত্বের। একে একে তাঁরা বললেন, আমরা টুকে নিলাম।

বিপদে মেয়েদের পাশে

তানহা মীম নরসিংদীর মেয়ে। সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটিতে পড়ছেন জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে। বাড়ির লোকজন বলেছিল, ‘মেয়েদের এত পড়ালেখার কী দরকার? যদি পড়তেই হয়, বিয়ে করে স্বামীর টাকায় পড়ো।’ কিন্তু তানহা মেনে নিতে পারেননি। নিজের দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধেই নিয়েছেন। টিউশনি করে ঢাকা শহরে থাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দেওয়া...কঠিন হয়ে যায় তাঁর জন্য। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টিউশন ফি ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। ভালো ফলের জন্য তিনি ৫০ শতাংশ বৃত্তি পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষা সহায়ক তহবিল’ থেকে পান আরও কিছুটা ছাড়। সব মিলিয়ে মনে বল পেয়েছেন তানহা। কথা বলার সময় তাঁর কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের ছাপ টের পাওয়া গেল।

শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ নয়, এই আত্মবিশ্বাসটাও দিতে চায় সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি। বিভিন্ন সময় ছাত্রীরা যখন বিপদে পড়েছে, পাশে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষকেরা। কখনো কখনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এগিয়ে এসেছে। বিবিএর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস যেমন একবার সময়মতো টিউশন ফি দিতে পারছিলেন না। এক শিক্ষক ডেকে বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম তো আমি বদলাতে পারব না। তোমার টাকাটা আমি দিচ্ছি। তুমি পরে আমাকে দিয়ে দিয়ো।’ মেয়েরা যেন রাস্তাঘাটে হেনস্তার শিকার না হন, সে জন্য আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর ব্যবস্থা আছে এখানে। শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের শিশুসন্তানদের জন্য আছে ডে–কেয়ার সেন্টার।

কেন এখানে এসে ছাত্রীরা বুকভরে দম নেন, বুঝতে বেগ পেতে হলো না।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।