আইন মানছে না বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়


Dhaka
Published: 2020-01-11 13:58:38 BdST | Updated: 2020-04-11 02:06:49 BdST

আইন মানছে না দেশের ৮০ ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। খোদ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিভাবক বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)র বার্ষিক প্রতিবেদনেই আইন না মানার বিষয়টি উঠে এসেছে।

সূত্র মতে, বর্তমানে সরকার অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১০৩টি। এরমধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে ৯১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরমধ্যে মাত্র ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত জমিতে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অর্থ্যাৎ পূর্ণাঙ্গ আইন মেনে চলছে মাত্র ১৯.১১ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়। এর বাইরে ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত স্থানে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণাধীন। ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় জমি ক্রয় করেছে। ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় কম জমিতে ক্যাম্পাস বানিয়েছে। তবে তারা জমি কিনেছে ফাউন্ডেশনের নামে ও সরকার কর্তৃক দায়বদ্ধ। তবে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ইউজিসি ৪৫তম বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ২৯শে ডিসেম্বর প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেয়া হয়। এছাড়াও চলতি সংসদ অধিবেশনেও এটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালে ভিসি, প্রো ভিসি, কোষাধ্যক্ষ এই ৩ পদেই প্রেসিডেন্ট কর্তৃক অনুমোদিত পদ পূরণ করেছিলো মাত্র ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়। পরের বছর ২০১৮ সালে আরো কমে নেমে আসে ৯টিতে। প্রেসিডেন্ট অনুমোদিত ভিসি নিয়োগ পেয়েছেন ৭৩ জন। প্রো ভিসি ২২ জন ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ পেয়েছেন ৪৩ জন। নিয়ম থাকলেও ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়নি কোন বোর্ড অব ট্রাস্টির সভা। সিণ্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়নি ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর অর্থ কমিটির সভা করেনি ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়। আর আইনে বলা থাকলেও কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই দুই সেমিস্টার চালু করেনি।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৯১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আয় ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট জমা দেয়। এই ৪৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট রিপোর্টে মাত্র ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয় পিইউএফআর (প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ফিন্যানসিয়াল রিপোর্ট) অনুযায়ী হয়েছে। আবার এই ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২টির বিবরণীর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অডিট ফার্ম নিয়োগপত্র পাওয়া যায়নি। আর ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেব বিবরণীতে ছিলো না মন্ত্রণালয়ের অডিট নিয়োগ সংক্রান্ত পত্র।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সালে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৯২ জন। এরমধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ৬১৫ জন। ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়েছেন চিকিৎসা, প্রকৌশল ও কৃষি বিজ্ঞান অনুষদে। আর ২০০৭ সালের তুলনায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২ গুণেরও বেশি। আবার ২০১৮ সালে ৬৮ হাজার ৭২৯ জন ডিগ্রি অর্জন করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৬জন কম।

বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০১৭ সালে ছিলো ১ হাজার ৯৭৭ জন। ২০১৮ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও কমেছে ৫৯১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী। এইবছর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, ভারত, পাকিস্তানসহ ৩৩টি দেশের এই শিক্ষার্থীরা ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পূর্ণকালীন শিক্ষক সংখ্যা ১১ হাজার ৭২২ জন এবং খণ্ডকালীন ৪ হাজার ৩৫২ জন। ইউজিসি বলছে, পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন শিক্ষকের এই অনুপাত সন্তোষজনক নয়। মোট শিক্ষকের মাঝে ৪ হাজার ৭২২ জন নারী শিক্ষক। এক্ষেত্রেও ইউজিসি বলছে নারী শিক্ষকের সংখ্যা আশানুরুপ নয়। এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয় ব্যয়ের হিসেবে দেখা যায়, মোট আয় প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ লাখ টাকা। গড়ে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় প্রায় ৩ হাজার ৮৫১ লাখ টাকা। এ বছরে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৫ লাখ টাকা। গড়ে ৩ হাজার ৬৯১ লাখ টাকা। আগের বছরের তুলনায় গড় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২৯৪ লাখ টাকা। আর ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩৪ লাখ টাকা।

ইউজিসি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বেশকিছু সুপারিশ করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী সিন্ডিকেট, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ইত্যাদি সভায় অংশগ্রহণের জন্য সিটিং অ্যালাউন্স, বিদেশ ভ্রমণ, আর্থিক বিষয়সমূহ সুনির্দিষ্টপূর্বক একটি স্ট্যাটিউট প্রণয়ন করে ইউজিসি’র মাধ্যমে অনুমোদন গ্রহণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের নির্দেশ দেয়া। এছাড়া ২০১০ সালের হিসেব অনুযায়ী স্বনামধন্য কোনো ফার্ম নিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নিরীক্ষা করানো যেতে পারে। এছাড়াও শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য আকর্ষণীয় আর্থিক সুবিধা রাখতে হবে। উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পৃথক বেতনস্কেল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার বিষয়ে যথযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।