বিশ্ববিদ্যালয় দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ


Cox'sbazar
Published: 2020-12-05 08:29:07 BdST | Updated: 2021-01-28 18:43:32 BdST

প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির এক ট্রাস্ট সদস্যের বিরুদ্ধে। সালাহউদ্দিন আহমদ নামের ওই ট্রাস্ট সদস্য অন্য সব প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন একটি ট্রাস্ট রেজিস্ট্রেশন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা দাবি করছেন।

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাহবুবা সুলতানা।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের সেক্রেটারি ও সিবিআইইউ প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মো. মুজিবুর রহমান, ট্রাস্টি সদস্য আবদুস সবুর ও ট্রাস্টি সদস্য আবদুল মাবুদ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পেশীশক্তি ব্যবহার করে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম করছেন সালাউদ্দিন। এমনকি এ জবরদখল ও লুটতরাজের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গাচ্ছেন তিনি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যদিও প্রতিষ্ঠাকালীন প্রপোজাল বুক, ট্রাস্ট ডীড এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়-বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) বিভিন্ন নথিপত্রে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, গত ২রা জুুন ট্রাস্টের সেক্রেটারি ও সিবিআইইউ প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মো. মুজিবুর রহমানের নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে ট্রাস্টের সদস্য ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দীন আহমদ বৈশ্বিক মহামারিজনিত লকডাউন চলাকালে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কায়েম করেন। এরপর তিনি ট্রাস্টকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা দাবি করে অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেন। অপকর্মের প্রতিবাদ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা পুনঃনির্ধারণের জন্য গত ৭ই জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাত বছর পর এ ধরনের অপচেষ্টা হাস্যকর ও ষড়যন্ত্রমূলক। প্রপোজাল বুক ও অনুমোদনপত্র অনুযায়ী সিবিআইইউ-এর প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মো. মুজিবুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনকালে ইউজিসি কর্তৃক গঠিত পরিদর্শক দল কক্সবাজারে এসে সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তাতেও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল মো. মুজিবুর রহমানের। তাঁর দেওয়া আর্থিক অনুদানসহ সবকিছুর বিশদ বিবরণ রয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিগত ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৩ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এবং ৬ই অক্টোবর ২০১৩ ইউজিসি কর্তৃক লায়ন মো. মুজিবুর রহমানকে উদ্যোক্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের চিঠি পাঠানো হয়। এরপর গত ৭ বছর যাবত শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসি থেকে লায়ন মো. মুজিবুর রহমানকে প্রতিষ্ঠাতা/উদ্যোক্তা সম্বোধন করে বিভিন্ন সময়ে পত্র আদান-প্রদান হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তার বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হলেও সালাহউদ্দিন আহমদের হাস্যকর আবেদনের প্রেক্ষিতে অজানা কারণে ইউজিসিকে তদন্ত করার জন্য চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে চিঠির আলোকে ইউজিসির সম্মানিত সদস্য ড. দিল আফরোজা বেগমকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়। ওই তদন্ত কমিটি আমাদের কারো সাক্ষাৎকার না নিয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করে। বিষয়টি জানতে পেরে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল্লাহ বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে আমাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্মানিত ইউজিসি চেয়ারম্যান স্যারের হস্তক্ষেপে ওই তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। তাদের তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান। সালাহ উদ্দীন আহমদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোন ধরনের অবদান না রেখে তিনটি মিথ্যা কথার আশ্রয় নিয়ে কতিপয় দৃস্কৃতিকারীর সহযোগিতায় দীর্ঘ ৭ বছর পর নতুন করে উদ্যোক্তা নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি রহস্যজনক আবেদন পত্র জমা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লায়ন মো. মুজিবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠার সাত বছর পর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নতুন করে নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে কি না। ইউজিসির মাধ্যমে দখলদার সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।