স্টেট ইউনিভার্সিটির স্প্রিং সেমিস্টারের ওরিয়েন্টেশন

শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে হবে: এ.কে. আজাদ


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-01-28 00:20:12 BdST | Updated: 2018-02-18 07:27:40 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশেনর সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ.কে. আজাদ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের বড় বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য করে তাদের গড়ে তুলতে হবে। গণিত, ইংরেজি ও বাংলাতেও তাদের দক্ষতা অর্জন করা জরুরি।

শনিবার সকালে রাজধানীর কলাবাগানে বেসরকারি 'স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ' (এসইউবি) এর স্প্রিং-২০১৮ সেমিস্টারের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর চেয়ারম্যান ডা. এ এম শামীম। কলাবাগানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ.কে. আজাদ বলেন, পাস করে বেকার থাকা লজ্জার। যোগ্যরা কখনো বেকার থাকে না। সে জন্য পাস করার পরে নয়, আগে থেকেই নিজেদের লক্ষ্য স্থির করে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'একটি মোমবাতি থেকে লক্ষ লক্ষ মোমবাতি জ্বালানো যায়। তেমনি তোমরা সারাদেশে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবে। তোমরা মাদক থেকে দূরে থাকবে।' তিনি মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান।

হা-মীম গ্রুপের চেয়ারমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.কে. আজাদ তার জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প নবীন শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরে বলেন, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায়ই বামধারার চিন্তা-চেতনা তার ভালো লাগে, তিনি পরবর্তীতে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ফলিত পদার্থবিদ্যায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে '৮৩ সালে তিনি কারাবরণ করেন। জেলে বসে খবর পেলেন, যাদের নেতৃত্বে আন্দোলনে নেমেছিলেন, তাদের অনেকে এরশাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। কেউ কেউ সামরিক সরকারের উপদেষ্টা হয়েছেন। জেলে বসে সিদ্ধান্ত নিলেন, এই নীতিহীনতার সঙ্গে আর নয়। আর রাজনীতি করবেন না। জেল থেকে ছাড়া পেলে শুরু করবেন ব্যবসা। কারাগার থেকে মুক্তির পর এক বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় ওষুধ তৈরির ব্যবসায় নামেন। তবে সফল হতে পারলেন না। পরে শুরু করেন গার্মেন্ট ব্যবসা। তার কারখানা এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। এ.কে. আজাদ জানান, লোকসান করে তিনি মনোবল দৃঢ় করলেন। অন্যরা পারলে তিনি কেন পারবেন না। আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। যত দিন গিয়েছে, শুধু সামনের দিকে এগিয়েছেন। ব্যবসার পরিধি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত হা-মীম গ্রুপে বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৫৪ হাজার। গত বছর ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে হা-মীম গ্রুপ। আগামী কয়েক বছরে এই গ্রুপের লক্ষ্যমাত্রা রফতানি এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর শিক্ষার্থীদের এ.কে আজাদ হা-মীম গ্রুপের কারখানাগুলো পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, টেক্সটাইল খাত দেশের অন্যতম সম্ভবনাময় খাত। দক্ষ ফ্যাশন ডিজাইনারের অভাব রয়েছে দেশে। তিনি শিক্ষার্থীদের ফ্যাশন ডিজাইনের ওপর জোর দেওয়ার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. এ এম শামীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষ হল ছাত্রছাত্রীদের বাকি জীবনের ভিত তৈরির সময়। এই ৪-৫ বছরের মধ্যে বাকি সারাজীবনের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, 'সুস্বাস্থ্য রক্ষা করে শিক্ষা অর্জন করবে। পরিবারের প্রতি তোমাদরে দায়িত্ব রয়েছে। এমন কোনো কাজ করবে না, যাতে পরিবারকে ছোট হতে হয়। নিজেকে ব্র্যান্ডিং করবে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক হবে। ভাল বন্ধু রাখবে।' তিনি বলেন, 'বাংলাদেশি হিসেবে আমরা গর্ব করতে পারি। পৃথিবীর বহু দেশের তুলনায় আমাদের দেশে আমরা শান্তিতে বসবাস করি।'

অনুষ্ঠানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম ফায়েজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার এই বয়সে দৃঢ় মনোবল থাকলে জীবনে যা কিছু চাই সবই অর্জন করা সম্ভব।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর উপাচার্য প্রফেসর ড. সাঈদ সালাম বলেন, স্কুল-কলেজে শিক্ষার ফাউন্ডেশন তৈরি হয়। মূল শিক্ষাটা ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অর্জন করে। দেশে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো, মানসম্পন্ন শিক্ষাদান করা।

ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অন্যান্যের মাঝে আরও বক্তৃতা করেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর প্রোভিসি প্রফেসর ড. মো আনোয়ারুল কবির, প্রক্টর ও পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষক ডা. নওজিয়া ইয়াসমিন, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন এবং আর্কিটেকচার বিভাগের উপদেষ্টা প্রফেসর শামসুল ওয়ারেস, ইংলিশ স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শাহীন মাহবুবা কবির, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। অনুভুতি ব্যক্ত করেন নবীন শিক্ষার্থী ফারদিন সালমান রহমান। জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক সাহস মোস্তাফিজের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এজাজুর রহমান।

বিডিবিএস 

Loading...

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।