আশা ইউনিভার্সিটির দুই 'আশা'র গল্প


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-02-12 03:44:58 BdST | Updated: 2018-02-25 13:42:38 BdST

মা তহমিনা আক্তারের ইচ্ছা ছিল, মেয়েকে ডাক্তার বানাবেন। মেয়েরও তাই। ছাত্রীও ভালো ছিলেন সোহানা দিল আফরোজ। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন। তবে মেডিক্যালে সুযোগ পেলেন না। এদিকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তির সময় শেষ। ফলে ভালো একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে এসে দেখলেন, অধ্যাপকদের ব্যবহার অমায়িক, ক্লাসরুমগুলোও সাজানো-গোছানো। গবেষণাগারগুলো উন্নতমানের। মেডিক্যালের লেখাপড়ার সঙ্গে ফার্মেসির মিল আছে বলে আর না ভেবে এখানেই ভর্তি হয়ে গেলেন। তাঁর আরো একটি ইচ্ছা ছিল, ফার্মাসিস্ট হয়ে মানুষের সেবা করবেন। ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিভাগের চেয়ারম্যান কোহিনূর বেগম এই মেধাবী ছাত্রীটিকে নিয়মিত উৎসাহ দিয়ে গেছেন। ফলে আগের হতাশা কাটিয়ে উঠতে মোটেও সময় লাগেনি সোহানার। লেখাপড়া শুরু হয়েছিল তাঁর ২০১৩ সালে। বরাবরই মনোযোগী ছিলেন তিনি। ফলে প্রতিদিনের লেকচারগুলো ভালোভাবে তুলে নিতেন। বিষয়ভিত্তিক নোট করে পড়তেন। নোটখাতা ও পরীক্ষার খাতায় নানা রঙের কলমে খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো মার্কিং করে লিখতেন। যেসব বিষয় কঠিন ছিল সেগুলো বারবার মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে টেনশন ফ্রি থাকার সময়টিকেই পড়ার উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। যেসব কঠিন সূত্র, যৌগের নাম, বিক্রিয়া মনে রাখা কঠিন ছিল, সেগুলো রুমের দেয়ালে মার্কার পেন দিয়ে লিখে রাখতেন। যখনই চোখ পড়ত, সেগুলো মনে রাখার চেষ্টা করতেন—এই সবই তাঁর ভালো ফলাফলের রহস্য। তবে শুধু লেখাপড়া নিয়েই থাকেননি সোহানা। আড্ডাও দিয়েছেন। ফার্মেসি বিভাগের নানা কার্যক্রমেও নিয়মিত অংশ নিয়েছেন। অনার্সে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৯৯। এটিই পুরো আশা ইউনিভার্সিটিতে অনার্সে যেকোনো ছাত্র-ছাত্রীর সবচেয়ে বেশি জিপিএ। রেজাল্টের কথা বলে তিনি আরো জানালেন, মা-বাবা ও ছোট ভাই বগুড়ায় থাকেন। তাঁরা তো বটেই, আত্মীয়-স্বজনও আমাকে সব সময় ফোনে, বাড়িতে গেলে ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত উৎসাহ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল পাওয়া এই ছাত্রীর জীবনের লক্ষ্য হলো, যে পেশায়ই থাকেন না কেন, সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে ভালো কাজ করবেন। যাতে মৃত্যুর পরেও তাঁকে মানুষ মনে করে।

প্রিসিলা জামান তন্বী ২০১১ সালের স্প্রিং সেমিস্টারে ভর্তি হয়েছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিবিএতে পেয়েছিলেন সিজিপিএ ৩.৯৮। তিনি ছিলেন বিভাগের সেরা ছাত্রী। এরপর একটি চাকরি নিলেন। ফলে এক সেমিস্টার পরে ভর্তি হলেন এমবিএতে। তিনি পড়েছেন এইচআরএমে (হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট)। তুখোড় এই ছাত্রীটি ফলাফল ও মা শামীমা সুলতানা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশার সদস্য হওয়ায় টিউশন ফিতে ৪০ শতাংশ ওয়েভার পেলেন। লেখাপড়া ও চাকরি একসঙ্গে করতে গিয়ে কোনো অসুবিধা হয়েছে কি না এই প্রশ্নের জবাবে তন্বী বললেন, ‘আমার বিভাগের শিক্ষকরা ছাড়াও আয়েশা আক্তার আপুও জীবনে বড় হওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।’ মেধাবী এই ছাত্রীটি চাকরি করেও এমবিএতে সিজিপিএ ৪ পেয়েছেন। এ ছাড়া বিআইএম (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট) থেকে তিনি পিজিডি এইচআরএম (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট) ডিগ্রি নিয়েছেন। এখন তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকে এইচআর অ্যান্ড লার্নিং বিভাগে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে আছেন।

কালেরকন্ঠ

বিডিবিএস 

Loading...

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।