জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুরিকাঘাতে আহত ২


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-08-17 19:20:03 BdST | Updated: 2018-09-26 00:04:07 BdST

অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে ছুরিকাঘাতে আহত করার অভিযোগ উঠেছে অপর এক ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় মীর মশাররফ হোসেন হলের আহত দুই শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আহত দুই ছাত্রলীগ কর্মী হলেন- দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মোকাররম হোসেন শিবলু ও সোহান রেজা সৌরভ। তারা দুজনই শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ানের অনুসারী। অপরদিকে ছুরিকাঘাতকারী শিক্ষার্থী হলেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের আল রাজী। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী। তারা তিনজনই তৃতীয় বর্ষের (৪৫ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে হলের দুই তলার করিডোরে অতর্কিতভাবে মোকাররম হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে আল রাজি। এতে মোকাররমের বাম হাতের তালু কেটে যায়। আল রাজী আবার আঘাত করতে গেলে মোকারমের সঙ্গে থাকা সোহান তাকে বাঁধা দেয়। পরে সোহানকেও ছুরিকাঘাত করে আল রাজি। এতে সোহানের হাত কেটে যায়। পরে হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত দুজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে এবং ছুরিকাঘাতকারী আল রাজির শাস্তি দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগে করেন। অভিযোগে বলা হয়- আলরাজীর সঙ্গে মোকাররম হোসেনের টাকার লেনদেন ছিলো। শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এই লেনদেন নিয়ে তাদের দুইজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুজনই মারমুখী আচরণ করতে থাকে। পরে হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর হস্তক্ষেপে তখনকার মতো বিষয়টি মিটমাট হয় যায়। এই ঘটনার জের ধরে দুপুরে আল রাজী দুই ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে বলে অভিযোগে করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আল রাজি বলেন, ‘এসব মিথ্যা কথা। মোকাররম আমার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলো। শুক্রবার সকালে ওর কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে সে টাকা দিতে টালবাহানা শুরু করে। পরে জোরাজুরি করলে সে আমাকে মেরে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়।’
এদিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘ছুরিকাঘাতের ঘটনা ব্যক্তিগত রেষারেষির ফলে ঘটেছে। তারা ছাত্রলীগের কর্মী কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তারা ছাত্রলীগের কর্মী হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ শফি মুহম্মদ তারেক জানান, এটি ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে ।’ আহত দুই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ব্যয় হল প্রশাসন বহন করবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘আমরা অভিযোগপত্র পেয়েছি। যেহেতু এটা হলের অভ্যন্তরীন বিষয় তাই হল প্রশাসনকেও একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছি। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।’

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।