পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন ফাঁস, এজহারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-10-14 18:36:55 BdST | Updated: 2018-12-12 01:19:42 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে পরীক্ষার আগের দিন রাতেই। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার মধ্যেরাত থেকে পরীক্ষার দিন সকাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সাব্বির ও লিমন নামে দুইজন প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। পরে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওই প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে। এই প্রশ্নপত্র বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক, হোয়াটসএ্যাপ, ইমো ও ভাইবারের মাধ্যমেও বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে প্রেরণ করা হয়। পুলিশের সহায়তায় শনিবার রাতে গ্রেফতারকৃত ও মামলার ১নং আসামী জাহিদুল ইসলামকে জিঙ্গাসাবাদে এ তথ্য বেরিয়ে আসে। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়েরকৃত এক মামলার এজাহারে এসব তথ্যই উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এস এম কামরুল হাসান বাদি হয়ে শনিবার রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২২(২), ৩৩(২) ধারা তৎসহ পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এর ১৩/৪ ধারায় এ মামলা দায়ের করেন। ১ নং আসামী জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যমতে, সাব্বির বগুড়ার রাহেমা কোচিং সেন্টার ও লিমন গুগল এডমিশন এন্ড ইনফরমেশন সেন্টারে কর্মরত।

রোববার রাতে ওই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, জাহিদুল ইসলাম (৪৫), ইনসান আলী ওরফে রকি (১৯), মো: মোস্তাকিম হোসেন (২০), মো: সাদমান সালিদ (২১), মো তানভীর আহমেদ(২১), মো আবু তালেব (১৯)। সবাই বগুড়ার স্থায়ী বাসিন্দা।

এজাহারে বলা হয়েছে, ‘সিআইডের সাইবার ক্রাইম টিমের সহায়তায় ১৩ তারিখ রাত সাড়ে বারটার দিকে তাদেরকে আলামত সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েলচত্বর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়’।

এজহারে বলা হয়, ‘আসামীরা ১২/১০/২০১৮(পরীক্ষার দিন রাত) ১২ টা ০৫ মিনিট থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রশ্নফাঁস করে আসছে। আসামীরা তাদের দখলে থাকা মোবাইল সিমকার্ড, ইন্টারনেট, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জালিয়াতির মাধ্যমে বে-আইনিভাবে ডিজিটাল সিস্টেমে প্রবেশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে তা স্থানান্তর করে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ করে আসছে’।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং আমরা ৬ জনকে আটক করেছি যারা এখন থানায় আছেন’।

মামলার এজহারে প্রশ্নপত্র ফাঁসের স্বীকারোক্তির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, মামলার এজহারের বক্তব্যই আমাদের বক্তব্য।

আর ‘ঘ’ ইউনিটের সমন্বয়ক সাদেকা হালিম বলেন, ‘আমি এজহার এখনও পড়ে দেখিনি। পড়লে তারপর বলতে পারবো।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।