ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ স্থগিত


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-10-15 14:54:39 BdST | Updated: 2018-12-15 09:38:46 BdST

পরীক্ষার দিন সকালেই অভিযোগ উঠে প্রশ্নফাঁসের। এর প্রতিবাদে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। প্রশ্নফাঁসের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকি থানায় মামলাও দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মামলার এজহারেও উঠে এসেছে প্রশ্নফাঁসের বর্ণনা।আটকও হয়েছে কয়েকজন অভিযুক্ত। প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান এমন নানা বিতর্কের মধ্যেই সোমবার সকালে ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশের ঘোষণা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও ঘোষণার তিন ঘন্টা পর দুপুরে ফল প্রকাশের ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় প্রকাশ করা হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রশাসনিক ভবনস্থ কেন্দ্রীয় ভর্তি কার্যালয়ে (কক্ষ নং-২১৪) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবেন।

.

এরপর দুপুরে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উপাচার্য দফতরের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসারের প্রেরিত ভুল তথ্যের জন্য “আগামীকাল ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে” মর্মে আজ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রেরিত হয়েছিল। উপাচার্য মহোদয়ের আদেশক্রমে এই প্রেস বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত করা হলো। অনাকাক্সিক্ষত এই ভুলের জন্য বিনয়ের সাথে দুঃখ প্রকাশ করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথাসময়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।’

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত শুক্রবার। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ৮১টি কেন্দ্রে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালীন সাড়ে ১০টার একটু আগে উত্তরসহ একটি প্রশ্নপত্র সাংবাদিকদের হাতে আসে। সেটি সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সোহেল রানাকে দেখান। পরীক্ষা শেষে হাতে লিখিত প্রশ্নপত্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া যায়।

শুক্রবার রাতেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অন্যরা হলেন, জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান। কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এরপর শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এস এম কামরুল হাসান বাদি হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২২(২), ৩৩(২) ধারা তৎসহ পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এর ১৩/৪ ধারায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার এজহারে বলা হয়, ‘আসামীরা ১২/১০/২০১৮(পরীক্ষার দিন রাত) ১২ টা ০৫ মিনিট থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রশ্নফাঁস করে আসছে। আসামীরা তাদের দখলে থাকা মোবাইল সিমকার্ড, ইন্টারনেট, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জালিয়াতির মাধ্যমে বে-আইনিভাবে ডিজিটাল সিস্টেমে প্রবেশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে তা স্থানান্তর করে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ করে আসছে’।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।