কবে ঢাবি ঘ ইউনিটের ফল প্রকাশ: তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে জানানো হবে


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-10-16 05:52:43 BdST | Updated: 2018-11-18 00:19:05 BdST

ঘ ইউনিটের অপ্রকাশিত ফলে দেখা যাচ্ছে পাশের হার যেকোন সময়ের চেয়ে দিগুণ 

আবদুল্লাহ আল ইমরান: আমার করা চ্যানেল ২৪ এর রিপোর্টে দেয়া চাক্ষুষ প্রমাণের পর আজ ঘ ইউনিটের ফল প্রকাশের দিনক্ষণ স্থগিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য। কবে এই ফল প্রকাশ হবে- তা তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর।

গতকাল তদন্ত কমিটি প্রশ্নফাঁস বিষয়ে আমার অনুসন্ধান এবং মতামত জানাতে ডেকে পাঠিয়েছিল। কমিটিকে আমি তিনটি সুপারিশ করেছি :

প্রথমত, পরীক্ষা বাতিল যদি করতে নাও পারে অভিযুক্ত সকলের ফল যেন বাতিল করে এবং শাস্তির আওতায় আনে। দ্বিতীয়ত, ঘ ইউনিটের পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার চেয়েছি। তৃতীয়ত, বিগত দুই বছরে প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে যারা যারা ভর্তি হয়েছে অনতিবিলম্বে তাদের সকলের বহিস্কার চেয়েছি।

কাজের অভিজ্ঞতায় দেখলাম, ডীন অফিস এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। ডীন ম্যাডামের মুখের দিকে তো তাকানোই যাচ্ছে না। অমানুষিক পরিশ্রম করার পরও কোনো একটি লেয়ার থেকে ঘটনাটি ঘটেছে। এখন আমাদের সেটাই খুঁজে বের করতে হবে।

অস্বীকার করে মূল ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে নয় বরং অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনার আরও গভীরে প্রবেশ করে অপারাধী সনাক্তে সিআইডি এবং আমাদের সহযোগিতা করাই হবে এই মুহুর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিবেচনাপ্রসূত কাজ।

দিনরাত ভয়ানক পরিশ্রম করে এর আগেও তো বের করে দিয়েছিলাম বিগত দুই বছরে কারা কারা অনৈতিক উপায়ে ভর্তি হয়েছে এবং কারাই বা এসব ঘটনার মূল হোতা। তাদের সবার বিষয়ে কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে?  সারা বছর মানুষ আমার কাছে জানতে চায়, প্রমাণ থাকার পরও কেন জালিয়াত শিক্ষার্থীদের বহিস্কার করা হচ্ছে না- এর উত্তর কি আমার দেওয়ার কথা?

.

বিশ্ববিদ্যালয় যদি এবারও আমার এবং সিঅাইডির উপর অনুসন্ধানের সকল দায় চাপিয়ে নিজেরা ফুরফুরা মেজাজে ঘুরে বেরায় তবে এর চেয়ে কষ্টের এবং দু:খের বিষয় আর কিছু হবে না।

একটা তথ্য দিয়ে শেষ করি, নানা সূত্রে জানলাম, এ বছর ঘ ইউনিটের পাশের হার ২০১৬ সালের চেয়ে তিনগুন এবং ২০১৭ সালের চেয়ে দুইগুণ বেশি! এও শুনেছি এবার প্রশ্ন ভীষণ সহজ হয়েছে।

ডীন ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, ফলাফল প্রস্তুত। তদন্ত কমিটির সুপারিশ এলেই ফল প্রকাশ হবে। তিনি এও জানালেন, জালিয়াত হিসেবে যাদেরই নাম আসবে তদের কাউকেই কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এই অবস্থানকে শ্রদ্ধা জানাই।

এতোকিছুর পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবার যদি কঠোর অবস্থানে না যায়, তবে এই ভয়ানক কলঙ্ক থেকে সহসাই আমাদের মুক্তি নেই।

ঘটনা প্রসঙ্গে সেই উদোম রাজার কথাই বারবার মনে পড়ছে। সবাই দেখছে, বিশ্ববিদ্যালয়ই কেবল দেখতে পাচ্ছে না তার সম্ভ্রম ক্রমেই ভূলুন্ঠিত হচ্ছে।

 

লেখাটি সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের ফেসবুক থেকে নেয়া 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।