ঢাবির ৫১তম সমাবর্তনে কী বলেছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান?


আনিসুজ্জামান
Published: 2018-11-05 09:23:47 BdST | Updated: 2018-11-18 02:26:55 BdST

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের পরিচয় দেওয়া যায় নানাভাবে। তিনি দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক, ভাষাসংগ্রামী, মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী, সংবিধানের অনুবাদক, দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনে ছিলেন অগ্রবর্তী ভূমিকায়। বয়স ৮১ বছর পেরিয়েছে, এখনো তাঁকে রাখা যায় ‘তরুণ’–এর কাতারে। গত ৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে বক্তা ছিলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবর্তন উৎসবে আমাকে সমাবর্তন বক্তার আসন দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। এখানে শিক্ষকতা করেছি। অবসর গ্রহণের পরেও ১৫ বছর শিক্ষকতার একাধিক পদে কাটিয়েছি এবং জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেই যুক্ত আছি। এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার অশেষ গর্ব। তাই এর সমাবর্তন উৎসবে একটি সম্মানের আসন লাভ করা আমার পক্ষে শ্লাঘার বিষয়। তবে ভয় হয়, আমি যা বলব তা হয়তো উপলক্ষের উপযুক্ত হবে না।

পৃথিবীতে শিক্ষার, এমনকি উচ্চশিক্ষারও এমন বিস্তার লাভ হয়েছে যে উচ্চশিক্ষার ধ্যান-ধারণার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। শুনতে পাই, ইউরোপের কোনো কোনো দেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রথাগত বিষয়ের জায়গায় অথবা তার পাশাপাশি আমাদের সমকালীন বিশ্বের বাস্তব সমস্যার বিষয়ে অধ্যয়ন অধ্যাপনার ব্যবস্থা হয়েছে। যেমন জলবায়ু পরিবর্তন বা বৈশ্বিক উষ্ণতা কিংবা সুপেয় পানির সংকট। এর পশ্চাৎবর্তী যুক্তি এই যে শুধু জ্ঞানের জন্য জ্ঞান আহরণ না করে যেসব সমস্যা প্রতিনিয়ত মানবজীবনকে স্পর্শ করছে, সেসব সমস্যা সম্পর্কে এখনই চিন্তা করা দরকার। আমাদের দেশে অবশ্য এ ধরনের সংকটের বিষয় উচ্চশিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা সহজ নয়। প্রথমেই প্রশ্ন উঠবে, এসব বিষয় যারা পড়বে তারা চাকরি পাবে কোথায় এবং কী সুবাদে? যেখানে অন্নচিন্তা নেই সেখানে এসব চলবে, এখানে চলবে না। কথাটা অবশ্য একেবারেই ফেলে দেওয়ার নয়, তবে ওপরে যে চিন্তাগত পরিবর্তনের বিষয়ে বলেছি, তারও সারবত্তা ভেবে দেখা দরকার।

গত ৫০–৬০ বছরে আমাদের নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন সব বিষয় অধ্যয়নের জন্য যুক্ত করেছি, বাজারে যার তাৎক্ষণিক চাহিদা ছিল না। যেমন পরিসংখ্যান বা সমাজবিজ্ঞান। কিন্তু দেখা গেল যে খানিকটা প্রয়াসের ফলে এসব বিভাগের ডিগ্রিধারীরা ঠিকই কাজ পেয়ে যাচ্ছেন। ১৯২১ সালে যে রসায়ন বিভাগ ছিল, তার শাখা–প্রশাখা বিস্তৃত হয়েছে এখনকার মৃত্তিকা, প্রাণী ও পরিবেশ বিভাগ, ফার্মেসি বিভাগ, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিভাগ, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগ, থিওরিটিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি বিভাগ, ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগ এবং পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে। যা তখন ছিল এক অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, তা থেকেও অনেক বিভাগের সৃষ্টি হয়েছে। কলা অনুষদের অন্তর্গত এক বাণিজ্য বিভাগ থেকে এখন ৯টি বিভাগ সংবলিত বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ গঠিত হয়েছে। দর্শনবিজ্ঞান থেকে ছেঁটে মনোবিজ্ঞান বিভাগ করা হয়েছিল। এখন তা থেকে করা হয়েছে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি এবং এডুকেশনাল কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ। এমনকি হালের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ ভেঙে গঠিত হয়েছে থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্মিং স্টাডিজ বিভাগ, সংগীত বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগ।

এ থেকে বোঝা যায়, বড় একটা বিষয়কে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে বিভক্ত করে বিশেষায়িত অনুশীলনে আমরা কার্পণ্য করিনি। অন্যদিকে আমাদের পরিসংখ্যান বিভাগ আছে, আবার পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউট আছে। ফার্মেসি বিভাগ এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগ আছে, আবার ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগ আছে। ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ আছে, আবার কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার বিভাগ আছে। দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ আছে, আবার ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনার‍্যাবিলিটি ইনস্টিটিউট আছে।

আপনারা কেউ যেন মনে করবেন না, আমি এর মধ্যে কোনো বিভাগ বা ইনস্টিটিউটের আবশ্যকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি। আমি বলতে চাই যে সব সময় আমরা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করে বিদ্যায়তনিক বিষয়ে বা একাডেমিক ডিসিপ্লিনের প্রবর্তন করি না। এমনই হওয়া উচিত। তবে আমাদের সামর্থ্যের স্বল্পতার কারণে পুনরাবৃত্তি আনয়ন দরকার। অন্যদিকে যেসব বিদ্যায়তনিক বিষয় আমরা অধ্যয়নের জন্য গ্রহণ করেছি, সেগুলো জ্ঞানের রাজ্যে এক একটি স্বয়ংসম্পন্ন দ্বীপ নয় তাও মনে রাখতে হবে। ভাষার সঙ্গে সাহিত্যের, সাহিত্যের সঙ্গে ইতিহাসের, ইতিহাসের সঙ্গে ভূগোলের, ভূগোলের সঙ্গে পরিবেশবিজ্ঞানের, পরিবেশবিজ্ঞানের সঙ্গে স্থাপত্য ও উদ্যানতত্ত্বের, চিত্রকলার সঙ্গে চিত্রিত পাণ্ডুলিপি ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের, নাট্যকলার সঙ্গে নৃত্যগীতবাদ্যের যে স্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে তা কিছুতেই ভুলে যাওয়া যায় না।

আমার বন্ধু শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রন ইনডেনকে দেখেছি আধুনিক ভারতের ইতিহাস পড়াতে গিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র বিষয় পড়াতে। যদি প্রাচীন ভারতের ইতিহাস জানতে নৃত্যগীত, বাদ্য, ভাস্কর্যের পঠনপাঠন করতে হয়, যদি মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাসের ক্ষেত্রে চিত্রকলা, স্থাপত্য সম্পর্কে জানতে হয়, তবে আধুনিক ভারতের জনজীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত চলচ্চিত্র বিষয়ে জানব না কেন?

আপনারা যদি আমার কথায় সংগতি না পান, সে দোষ আমারই।

বিদ্যায়তনিক শৃঙ্খলায় বড় বিষয় ভেঙে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র বিষয়ে বিশেষজ্ঞের জ্ঞান লাভ উচ্চশিক্ষার একটি উদ্দেশ্য বটে। আমি বলতে চাই, ঐক্য দরকার, আবার বিভক্তিরও প্রয়োজন আছে। ফরাসি দর্শনবিদ ও বিজ্ঞানী পাসকেল অন্য বিষয়ে যা বলেছিলেন, এ ক্ষেত্রে আমি তা তুলে ধরতে চাই। যে বহুত্ব ঐক্যে উপনীত হয় না, তা বিশৃঙ্খলা। যে ঐক্য বহুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, তা জুলুম। আমি দুয়ের মিলন আকাঙ্ক্ষা করি। এই সঙ্গে সেই সনাতন প্রশ্নটি নতুন করে উত্থাপন করি। শিক্ষার উদ্দেশ্য কী? আপনারা জানেন যে এ বিষয়ে মোটামুটি দুটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে। একটির মতে, ব্যক্তির দেহমনের উন্নয়ন, তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের বিকাশ, কোনো একটি পেশায় নিয়োজিত হতে তাকে প্রস্তুত করা, সেই সঙ্গে তার আত্মপরিচয়ের একটি ভিত্তি তৈরি করা। অপরটির মতে, ভালো নাগরিক হিসেবে তাকে গড়ে তোলা, যাতে সে সমাজের কাজে আসে তা নিশ্চিত করা, সে যেন উৎপাদনশীল মানুষ হিসেবে সমাজের উন্নয়নে অংশ নিতে পারে তার জন্য তাকে পর্যাপ্ত জ্ঞান দেওয়া, সেই সঙ্গে সে যেন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত হয়, তা দেখা।

আমি বলব এই দুই দৃষ্টিভঙ্গি একে অপরকে বাতিল করে না। এর যোগফলই শিক্ষার, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য। আমি খুব জোর দেব শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের বিকাশে। উচ্চশিক্ষা লাভ করে সে যদি ভালোমন্দ বিচার করতে না পারে এবং ভালোর পক্ষে দাঁড়িয়ে মন্দ প্রতিরোধ করতে না পারে, তাহলে তার উচ্চশিক্ষা বৃথা। জীবনে আহরিত মূল্যবোধ সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ নাও হতে পারে। শিক্ষার্থী যদি মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া মূল্যবোধের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, সর্বাগ্রে আমি তাকেই স্বাগত জানাব।

আপনারা জানেন ইংরেজিতে উচ্চশিক্ষার একটি সমার্থক হলো টারশিয়ারি এডুকেশন। অর্থাৎ তৃতীয় স্তরের শিক্ষা। তার মানে দুটি স্তর—প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা, আমাদের দেশে প্রচলিত উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাও তার অন্তর্গত, তা অতিক্রম করে তৃতীয় স্তরে প্রবেশ করতে হয়। উচ্চশিক্ষা স্বয়ম্ভু নয়, এর ভিত্তি আগের দুই স্তরের শিক্ষা। সেই দুই স্তরের শিক্ষা সম্পর্কে কিছু না বলে শুধু উচ্চশিক্ষার কথা বলা বাকবিস্তার মাত্র। কিন্তু এত কথা বলার সময় কই? আমি শুধু বলব আমাদের দেশে নিম্নস্তরের শিক্ষারই অনেক ভাগ রয়েছে, তা আমাদের দুর্ভাগ্য।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রই একাধিক ধরনের শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছে। নির্ধন শিশু ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষায় প্রবেশ করার কথা কল্পনা করতে পারে না। ধনী পরিবারের সন্তান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার কথা ভাবতেই পারে না। যদিও সরকারিভাবে একটি ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা দেওয়াও পাশাপাশি চলছে। তারপর রয়েছে দু ধরনের মাদ্রাসা শিক্ষা। সাধারণত গরিব ছেলেমেয়ে সেখানে যায়। এমনকি যাঁরা সওয়াব হাসিলের জন্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, তাঁরাও নিজেদের সন্তানদের সেখানে পাঠান না। মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে চিন্তার বাইরে রাখা রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়। উচিতও নয়। অনেকেই মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার বা আধুনিকীকরণের কথা বলেছেন। আপনারা আমাকে মাফ করবেন, জ্ঞান হওয়া অবধি আমি মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণের কথা শুনে আসছি। আজও তা হয়ে উঠল না।

শিক্ষাব্যবস্থাটা হওয়া উচিত পিরামিডের মতো। এর ভিত্তিটা চওড়া হবে। উচ্চশিক্ষা হবে তার চূড়া। সকলে যাতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করতে পারে, সর্বাগ্রে তা দেখা দরকার। আমি আসলে অন্য কথা বলতে চেয়েছিলাম। আমাদের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, শিক্ষা বিস্তারের জন্য তা আবশ্যক, কিন্তু এ ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে উপযুক্ত শিক্ষা পাওয়া যায় না। ফলে শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষত বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রার্থিত মানে উন্নীত হতে পারছে না। তারা যখন শিক্ষার তৃতীয় স্তরে অর্থাৎ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রবেশ করে, তখন এই দুর্বলতা আর দূর করে ওঠার সম্ভাবনা থাকে না। অবশ্য উনিশ শতকের শেষ দিক থেকে বলা হতে থাকে যে এ দেশে শিক্ষার মানের অবনমন ঘটেছে। তবে উচ্চশিক্ষার মানের অবনমন সম্পর্কে কর্মে নিয়োগকর্তারা এখন যেভাবে সমস্বরে কথা বলছেন তা আগে শোনা যায়নি।

আমাদের উচিত বিষয়টি বিবেচনা করা এবং তার প্রতিকার খুঁজে পাওয়া। পৃথিবীতে জ্ঞানের যে বিস্ফোরণ ঘটছে, তা যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ফলে আমাদের লব্ধ জ্ঞানের অনেকটাই প্রতিনিয়ত বাতিল হয়ে যাচ্ছে। সেখানে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হচ্ছে। জ্ঞানের সৃষ্টিতে আমরা তেমন অগ্রসর হতে পারিনি। তবে যে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হচ্ছে তা আয়ত্ত করতে আমরা চেষ্টা করছি। সে প্রয়াস তীব্র না হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা সত্যি সত্যি পিছিয়ে পড়বে। তবে আমি জোর গলায় বলব, এখনকার ভালো ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের কালের ভালো শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনেক ভালো। শ্রেণিকক্ষের বাইরে জ্ঞান আহরণের জন্য যে সুযোগ তারা পেয়েছে, আমাদের কালে তা ছিল না। এমনই কিছু উজ্জ্বল ছেলেমেয়ে এই সমাবর্তনে ডিগ্রি লাভের উৎসব করতে এসেছে। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। অভিনন্দন জানাই তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের।

গ্র্যাজুয়েটদের কাছে আমার একটাই নিবেদন, তোমরা ভুলে যেও না তোমাদের আজকের কৃতিত্বের মূলে আছে তোমাদের পরিবার, তোমাদের শিক্ষায়তন, তোমাদের এই গরিব দেশ। তোমরা পৃথিবীর যেখানেই থাকো, যে অবস্থায় থাকো, পরিবার ও দেশের কাছে তোমাদের ঋণের কথা ভুলে যেয়ো না। সাধ্যমতো চেষ্টা কোরো সে ঋণ পরিশোধ করতে। এ কথা জেনো, তোমরা বাংলাদেশের সেই স্বল্প সৌভাগ্যবান মানুষদের মধ্যে স্থান লাভ করেছ, যারা উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছে। মনে রেখো, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখনো সাক্ষরতার সুযোগ বঞ্চিত। পারলে তাদের জন্য কিছু করো। তারা তোমাদেরই ভাইবোন।

https://www.youtube.com/watch?v=__3Iree2Hp0

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।