ঢাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের সময় নিয়ে নীল-সাদা মুখোমুখি


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-11-17 19:39:05 BdST | Updated: 2018-12-12 03:32:18 BdST

৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে বিষয়টি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল ও বিএনপি-জামাতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে নিতে নির্বাচন কমিশনার ও শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দকে কয়েক দফায় চিঠি দিয়েছে সাদা দল। তবে ঘোষিত তারিখেই নির্বাচন করার বিষয়ে অনড় রয়েছে নীল দল এবং নির্বাচন কমিশন।

জানা যায়, গত ১৩ নভেম্বর ঢাবি শিক্ষক সমিতি কার্যকর পরিষদ ২০১৯ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিলে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ৪ ডিসেম্বর। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের তারিখ পেছাতে নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেন সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। তা আমলে না নিলে গত বৃহস্পতিবার সাদা দলের আহ্বায়ক কমিটির সব সদস্য স্বাক্ষর করে পুনরায় চিঠি দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনারকে।

সাদা দলের চিঠিতে বলা হয়, ‘গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষক সমিতি নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটির দুই/একদিন আগে হয়ে থাকে। দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আসন্ন নির্বাচনটি পূর্বের ন্যায় শীতকালীন ছুটির দুই/একদিন আগে অর্থাৎ ১২ অথবা ১৩ ডিসেম্বর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।’

তফসির ঘোষণার আগেই শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে জানানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয়ে সাদা দলের চিঠিতে।

এ বিষয়ে সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘প্রস্তুতির দিক থেকে ক্ষমতাসীন প্যানেল সব সময় এগিয়ে থাকে। আমরা তাফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তারিখ পেছাতে বলেছি। নির্বাচন কমিশনারকে দুই দফায় চিঠি দিয়েছি। তারা এখনও কিছু জানায়নি। তারা যদি তাদের মতে অনড় থাকে তাহলে আমাদেরও বিকল্প চিন্তা করতে হবে।’

সাদা দলের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, নীল দলের প্রভাবশালী এক শিক্ষক নেতার ভাই সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা। তিনি ভাইয়ের নির্বাচনে সময় দিবেন। তাই এক জনের জন্য শিক্ষক সমিতির নির্বাচন এগিয়ে আনা হয়েছে।

নির্বাচনের তারিখ নিয়ে অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘ভোটারদের কথা বিবেচনা করেই আমরা এ তারিখ নির্ধারণ করেছি। সাদা দলের প্রতিনিধিদের সাথেও আমাদের কথা হয়েছে। নির্বাচন পেছানো হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না, এ তারিখেই নির্বাচন হবে।’

ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ তারিখ। সাদা দলের শিক্ষকদের অনুরোধে আমরা সেটাকে ৪ তারিখ করেছি। এখন উনারা আবার নির্বাচন পেছানোর কথা বলছেন কেন? নির্বাচন পেছানো হলেও আমাদের কোন সমস্যা নেই। তবে আমাদের বিশাল সংখ্যক শিক্ষক (ভোটার) ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন। তারা চাচ্ছেন যেন এ দিনই (মঙ্গলবার) নির্বাচন হোক। কারণ এ দিনে ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকার দোকান-পাট বন্ধ থাকে। শিক্ষকদের যাতায়াতে সুবিধা হতো। তবে আমরা এখনও আলোচনা করছি। দেখা যাক কি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

প্রধান নির্বাচন পরিচালক অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ মূলত শিক্ষক সমিতির কার্যকরী কমিটি করা হয়ে থাকে। তারা নির্বাচন কমিশনকে তারিখ নির্ধারণ করে দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আহ্বান জানায়। আমি সাদা দলের চিঠি পেয়েছি এবং এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারিকে জানিয়েছি। উনারা যদি বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা করতে চান নির্বাচন কমিশন তা আয়োজন করতে পারে। অন্যথায় যে সময় দেয়া আছে ও সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

গত কয়েক বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৭ সালে ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬ সালে ৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ সালে ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর এবং ২০১৩ সালে ১৩ ডিসেম্বর ঢাবি শিক্ষক সমিতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।