অবশেষে চবিতে ভর্তি হলেন অনশনকারী সেই শিক্ষার্থী


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-12-03 16:10:01 BdST | Updated: 2018-12-12 03:32:27 BdST

সনদ খোয়া যাওয়ায় ভর্তি হতে না পেরে আমরণ অনশন করা রহমত উল্ল্যাহ অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেন। সোমবার কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির মাধ্যমে সফল হলো তার সেই অনশন।

ভর্তি হয়ই তিনি জানান, সনদ না থাকায় প্রথম মেধা তালিকায় ভর্তি হতে পারিনি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সময় দিলে দ্রুত সময়ে সনদগুলো বোর্ড থেকে এনে জমা দিলে তৃতীয় মেধা তালিকায় আমাকে ভর্তির সুযোগ দেয় কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, পুরো ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার পাশে ছিলেন চবি সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা। তাদের মাধ্যমেই আমার বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। এ জন্য তাদের নিকট চিরকৃতজ্ঞ। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। আগামীতে ভালো ফলাফল ও কাজে যুক্ত থাকারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এই শিক্ষার্থী।

এদিকে তার ভর্তির বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সকল বিষয় বিবেচনা করে ওই শিক্ষার্থীকে সনদগুলো আনার সুযোগ দেয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ে সেগুলো উপস্থাপন করায় তাকে ভর্তির অনুমতি প্রদান করে ভর্তি কমিটি। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে।

এর আগে গত ১৬ নভেম্বর ভর্তি হতে আসার পথে ট্রেন থেকে সনদ খোয়া যায় মাদারীপুরের রহমত উল্ল্যাহর। সনদ না থাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের অধীন ‘বি’ ইউনিটে ৯১৭তম হয়েও তার ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। জিডি কপি থাকার পরও বেঁকে বসেন ডিন। খোয়া যাওয়ার ঘটনা মানতে নারাজ তিনি। সনদ ছাড়া ভর্তির সুযোগ না থাকায় ভর্তির নির্দিষ্ট সময়ও পার হয়ে যায়।

উপায়ন্তর না দেখে ২২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) আমরণ অনশনে নামেন রহমত উল্ল্যাহ। এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে অনশনকালে ‘অশিক্ষিত মুর্খ চোর কেড়ে নিল সার্টিফিকেট, শিক্ষিতরা জীবন নিতে চায়’; ‘মাননীয় ডিন একটি পরিবারের স্বপ্নকে জীবন্ত কবর দেবেন না’; অধিকার দাও, না হয় মৃত্যুর পথ দেখাও’; ‘মেধার মূল্যায়নে মানবতা বেঁচে থাক’; ‘সিস্টেমের জঞ্জালে, আবদ্ধ মানবতা’ এমন স্লোগান সম্বলিত পোস্টারও প্রদর্শন করে ওই শিক্ষার্থী।

অনশন শুরুর ঘণ্টাখানেক পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র জুস খাইয়ে তার অনশন ভাঙান এবং প্রক্টর কার্যালয়ে তাকে নিয়ে যান। পরে ভর্তি কমিটির সভায় তাকে সনদগুলো উপস্থাপন করার জন্য সময় দেয়া হয়। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে তা উপস্থাপন করেন তিনি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।