ডাকসু: ছাত্রী হলে প্রার্থী সংকটে ছাত্রদল


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-02-10 14:25:31 BdST | Updated: 2019-08-19 15:22:42 BdST

দীর্ঘ ৯ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রাজনৈতিক কর্মকান্ড তো নেইই, সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে এসে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন। ফলে বিগত কয়েক বছর নতুনকরে সংগঠনটিতে কর্মী যোগ হওয়ার হার খুবই কম। ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের পর থেকে নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় ছাত্রত্ব এবং বয়সসীমা ৩০ বছর নির্ধারণ করে ডাকসু নির্বাচনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে একক প্যানেল দিতে হিমসিম খাচ্ছে ছাত্রদল।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, ছাত্রদলে কর্মী সংকট নেই। ৩০ বছর বয়সের ভেতর যথেষ্ঠ নেতাকর্মী রয়েছে তাদের। তবে ছাত্র হলে প্যানেল দিতে অসুবিধা হবে না জানালেও ছাত্রী হলে ছাত্রদলের সংগঠন না থাকার বিষয়টি শিকার করে সেখানে ভিন্ন কৌশল অবলম্বনের কথা জানলেন তিনি।

মেহেদী তালুকদার বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তা ছাড়াও বিভিন্ন কারণে হলের বাইরে থাকা সম্ভব হয় না। ছাত্রদল করার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই ক্যাম্পাসে যেতে পারেন না, হলে থাকতে পারেন না। এ অবস্থায় ছাত্রীদের নিরাপত্তাগত কারণে সেখানে ছাত্রদলমনা কর্মীদের প্রকাশ্যে আনা হয় না।কমিটি না থাকলেও বিএনপি পরিবারের শিক্ষার্থীরাই ছাত্রদল থেকে প্রার্থী হতে পারবেন বলে তিনি জানান।

আর কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান জানালেন, ছাত্রী হলে তাদের ‘সুপ্ত সমর্থকরা’ ছাত্রদল থেকে প্রার্থী হতে পারেন।

একক প্যানেল, প্রয়োজনে জোটগত নির্বাচন : এখন পর্যন্ত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে একক প্যানেল দেবার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সবশেষ ডাকসু’তে জয়ী হওয়া দেশের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ নিয়ে কয়েকদফা বৈঠক করেছে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় সংসদের নেতারা। তবে এখন পর্যন্ত প্রার্থীতা কিংবা প্যানেল চূড়ান্ত করতে পারেনি সংগঠনটি। জোটগতভাবে নির্বাচন করার সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রল নেতারা বললেন, সময় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় লক্ষ্য ও আদর্শের মিল থাকলে যেকোনো সংগঠনের সঙ্গে জোট হতে পারে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতারা।

এদিকে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান অভিযোগ করেছেন, সহাবস্থান প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে একটা গা ছাড়া ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রায় তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে, কিন্তু প্রার্থীতা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই অধিকাংশ সংগঠনের মতামতকে অগ্রাহ্য করে একটি সংগঠনের (ছাত্রলীগ) চিন্তার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আদৌ নির্বাচন চায় কিনা এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে যেসব প্রতিবন্ধকতা তৈরী করা হয়েছে, তাতে সংক্ষুব্ধ কেউ হাইকোর্টে রিট করলে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।