জালিয়াত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কোন পর্যায় রয়েছে, জানতে চায় শিক্ষার্থীরা


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-04-16 21:26:01 BdST | Updated: 2019-11-22 19:50:19 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে অনেকেই ভর্তি হয়েছেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এরকম ১৫ জনকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এছাড়াও ২০ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত  তদন্ত চলছে। তবে তদন্ত কাজ কি পর্যায় রয়েছে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা অস্পষ্টতার মধ্যে রয়েছে। তারা তদন্তের গতি সম্পর্কে জানতে চান।

যাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের তদন্ত হচ্ছে এবং তদন্ত কার্যক্রম কি অবস্থায় রয়েছে তা শিক্ষার্থীরা জানতে চেয়েছেন।

জালিয়াতির মাধ্যমে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ডাকসু এবং ছাত্রলীগ জিরো টলারেন্সে রয়েছে। অবশ্যই অনৈতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে অবশ্যই শক্ত অবস্থান নিবে, এরকমটাই আশা করছে ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন।

তিনি বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সকলের ছাত্রত্ব বাতিল এবং প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শুভবোধের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতেই হবে।

আগামীকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।এতে অংশ নেবেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর।

যাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তাদের নিয়ে নিয়মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা  পরিচয় প্রকাশ করছে। তাদেরকে দ্রুত বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

চ্যানেল ২৪ এ জালিয়াতদের যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তাদেরকে অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তদন্তের মাধ্যমে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, ধীর গতির তদন্তে জালিয়াতরা ছাড় পেয়ে যেতে পারে তাই তারা অতিদ্রুত তদন্ত করে জালিয়াতদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।

জালিয়াত শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিভিন্ন হলে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পদে রয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থেকে জালিয়াতদের বহিষ্কার করারও দাবি জানিয়েছেন।

জালিয়াত অনেক শিক্ষার্থীর  পরিচয় প্রকাশ করার পরেও অনেকেই বিভিন্ন হলে অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদেরকে হল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

২০১৮ সালে ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিল করে আবার পরীক্ষা নিতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, জালিয়াত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যাতে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় সেরকম ভাবেই অবস্থান নিবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। জালিয়াতদের কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জালিয়াতদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, জালিয়াতদের বিরুদ্ধে সিআইডি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, জালিয়াতি করে কেউ ছাড় পাবে না। কোন জালিয়াত যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে বেরও হয়ে যায় তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথে তার সার্টিফিকেট বাতিল করা হবে। সে বাংলাদেশের যেখানেই থাকুক না কে।