'বিজ্ঞাপনে চাওয়া যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ঢাবিতে শিক্ষক হয়েছেন ৭৫ জন'


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-07-07 14:06:36 BdST | Updated: 2019-07-21 15:42:54 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম ৭৫জন শিক্ষক আছেন যাদের নিয়োগের জন্য দেয়া বিজ্ঞাপনে চাওয়া যোগ্যতাও নেই। আমার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এরকম কোন ঘটনা নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ আয়োজিত শুক্রবার টিএসসিতে এক সেমিনারে এ তথ্য জানান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ মিজানুর রহমান। তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। 

তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগের জন্য দেয়া বিজ্ঞাপনে  চাওয়া যোগ্যতা ছিল না এ ৭৫ জন শিক্ষকের। তাহলে শিক্ষার মান ঠিক থাকবে কি করে।

তিনি জানান, এসব শিক্ষক অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দীক উপাচার্য থাকাকালীন সময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি এভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে শিক্ষার মান দিন দিন যেভাবে অধপতিত হচ্ছে তা তো হওয়ারই কথা।

এদিকে এই সেমিনারে শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনি মন্তব্য করেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।

জানা গেছে, অধ্যাপক ডক্টর আ ও আ ম স আরেফিন সিদ্দীক উপাচার্য থাকাকালীন সময়ে প্রায় সাড়ে ৯ শত শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ পেয়েছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হয়। এটা কোনোদিনও প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ছিল না। এটা একটা বদনাম দিয়ে গেছে। যখন এটাকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হয় তখন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা ছিল ৫-৬ হাজার। আর শিক্ষক ছিল ৬৫-৬৬ জন।

জবি উপাচার্য বলেন, এটা কোনোদিন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ছিল না। এটা হলো আমার প্রথম আবিষ্কার। আস্তে আস্তে আমরা অক্সফোর্ড হওয়ার চেষ্টা করছি।

ওই সময় বিজ্ঞান গবেষণাগার এটা সেটা কিছুই ছিল না উল্লেখ করে ড. মিজানুর রহমান বলেন, এরপরেও এটাকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে চলে গেছে।

তিনি বলেন, আমি যখন প্রথম অক্সফোর্ডে যাই তখন আমি দেখার চেষ্টা করি কেনো আমাদের এ বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো। আমি দেখলাম একমাত্র গাজীহুল উম্মুল স্কুলের সঙ্গে আমাদের অক্সফোর্ডের মিল আছে। কারণ অক্সফোর্টের বয়স তখন প্রায় ৬শ বছর। হঠাৎ করে এগুলো আমরা বলে ফেলি আসলে এগুলো আমরা ঠিক করি না।

শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের আলু উৎপাদন বেড়ে গেছে। শাকসবজি উৎপাদন বেড়েছে, বিশ্বে আমরা ৮ম অবস্থানে রয়েছি।আমাদের সবকিছুতে উন্নতি। তবে লেখাপড়ার বিষয়ে তেমন নেই।

তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তান থাকার সময় আমাদের গড় আয়ু ছিল ২৭ বছর আর এখন আমাদের গড় আয়ু বেড়ে ৭৪ বছর হয়েছে। শুধু শিক্ষা নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। যদি এভাবে যায় এক সময় মাটির নিচে দেবে যাবে।

উপাচার্য অধ্যাপক মিজানুর রহমানের বক্তব্যের ভিডিওটি দেখুন এখানে

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।