‘ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা উচ্চশিক্ষা ধ্বংসের নীলনকশা’


Dhaka
Published: 2019-09-05 18:27:53 BdST | Updated: 2019-12-06 09:15:52 BdST

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রণীত ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। নীতিমালাটিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তাঁরা। এটিকে তাঁরা উচ্চশিক্ষা ধ্বংসের নীলনকশা হিসেবে অভিহিত করেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক মানববন্ধন থেকে ওই নীতিমালা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন শিক্ষকেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনবিরোধী অভিন্ন নীতিমালা বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম বাংলাদেশ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষক এতে অংশ নেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মানববন্ধনে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির এই নীতিমালা দেশের উচ্চশিক্ষা ধ্বংসের নীলনকশা। এর মধ্যে দুরভিসন্ধি ও কালো চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে যাঁরা অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনতে চান, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণাই নেই।’

অধ্যাপক কামরুল হাসান আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শিথিল নয়, আরও কঠিন করা হোক। শুধু জিপিএ নম্বর দিয়ে যোগ্যতা নির্ধারণ করা যায় না। যথাযথ নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে যোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হোক। কারণ একটি খারাপ নিয়োগ মানে পরবর্তী অনেকগুলো বছর শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত হওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাই এই নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হওয়া অভিন্ন নীতিমালাকে প্রতিরোধ করতে না পারলে উচ্চশিক্ষায় ধস নামবে।’

মানববন্ধনে অধ্যাপক কামরুলের পক্ষে বিবৃতি পড়ে শোনান কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক আলতাফ হোসেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল ইউজিসির ১৪৬তম সভায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি বিষয়ক অভিন্ন নীতিমালা গৃহীত হয়। এটি ইউজিসির কর্মপরিধির বাইরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নকে নিয়ন্ত্রণ করার সূক্ষ্ম প্রয়াস। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর এটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষকদের মান ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষক নিয়োগের শর্ত ঠিক করবে—এটাই কাম্য। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একেক অনুষদে, এমনকি একই অনুষদের একেক বিভাগে নিয়োগ ও পদোন্নতির একেক রকম নীতিমালা থাকতে পারে। অভিন্ন নীতিমালা না করে বরং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিলে যুগোপযোগী বাস্তব নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বঙ্গবন্ধু সরকারের একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক সিদ্ধান্ত। অভিন্ন নীতিমালা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই স্বায়ত্তশাসনের ওপর চূড়ান্ত আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা অংশ নেন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অভিন্ন নীতিমালা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেন শিক্ষকেরা।

২০১৭ সালে ইউজিসি এই অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করেছিল। গত ২৫ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সভাপতিত্বে এক সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতারত বাংলাদেশি শিক্ষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি যুক্ত করে এই নীতিমালা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর তা প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।