বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের মহাপরিকল্পনা করায় ওই ছাত্রী বহিষ্কার!


টাইমস ডেস্ক
Published: 2019-09-18 09:53:19 BdST | Updated: 2019-10-14 10:47:17 BdST

বিভিন্ন কারণে আবারও নতুন করে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক বহিষ্কৃত ছাত্রী মঙ্গলবার তার নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ন্যদিকে, একই দিনে নিজের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার মো. নাসিরউদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলন উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়ার বহিষ্কার ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য দেয়া হয়নি বরং সে অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকাদের নিয়ে অশালীন কুরুচিপূর্ণ এবং কুৎসা রটনাসহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ফেসবুক, ই-মেইল আইডি হ্যাক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট হ্যাক করে ভর্তি পরীক্ষা বানচাল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এছাড়া ফাতেমা তুজ জিনিয়া সিনিয়র শিক্ষকদের নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। উপাচার্য অভিযোগ করেছেন, ইতিমধ্যে ওই ছাত্রী তার ফেসবুক আইডি দু’বার হ্যাক করেছে।

এদিকে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশে লেখা ছিল, প্রশাসনকে নিয়ে তার দেয়া স্ট্যাটাস এবং কমেন্ট সমূহে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেয় করার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন অভিযোগ করেন, ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া আরেক ছাত্রের যোগসাজশে ‘উপাচার্য, প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের মহাপরিকল্পনা করছিল এমন প্রমাণ প্রশাসন পেয়েছে। এ কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, সংবাদ পরিবেশন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন ।

উল্লেখ্য, আইন বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া পড়ালেখার পাশাপাশি ‘দ্য ডেইলি সান’ নামে জাতীয় দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসাবেও কাজ করেন। বহিষ্কারের ব্যাপারে ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি তার সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জের ধরে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উপাচার্য আরও বলেন, ‘ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে মিথ্যাচার ও অশালীন মন্তব্য করেছে। অথচ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের কোন টাকা এখনো খরচ হয়নি। সে সরকার বিরোধী সংগঠনের নেতা ও বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের অপমান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা একজন শিক্ষার্থী হিসাবে অন্যায়, গর্হিত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

উপাচার্যের বক্তব্য, ওই ছাত্রী যদি তার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে তবে তার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়া হবে।

এদিকে জিনিয়া বলেন, আমি যেখানে অপরাধ করিনি সেখানে কেন ক্ষমা চাইব।

প্রসঙ্গত, জিনিয়ার বহিষ্কারের খবর প্রকাশ ও প্রতিবাদ করায় সোমবার বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শামস-জেবিনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এছাড়া, জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে হয়রানি, জোরপূর্বক সাংবাদিক সমিতি থেকে বহিষ্কার করানো, ক্রমাগত হুমকি প্রদানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় উপাচার্যের অনুসারীরা জড়িত বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার মো. নাসিরউদ্দিন নিজেও শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি প্রদানের ঘটনাও প্রকাশ পেয়েছে।

মঙ্গলবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করে । একই সঙ্গে বহিষ্কারাদেশ তুলে না নিলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণাও দেন তারা।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্যকে পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয় ‘মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ’। একই সঙ্গে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরও ৩৪ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এছাড়া, ওই দিনই বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেডারেশন বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার মো. নাসিরউদ্দিনকে অপসারণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।

এসএম/ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯