আবরারের নৃশংস হত্যাকাণ্ড: ঢাবি শিক্ষক সমিতির নিন্দা


Dhaka
Published: 2019-10-08 17:15:18 BdST | Updated: 2019-10-15 06:07:09 BdST

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২য় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আমরা ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা লিখেছে ঢাবি শিক্ষক সমিতি।

লেখা হয়েছে, এই হত্যাকাÐ নির্মম ও পৈশাচিক। আমরা আবরারের হত্যাকারীদের দ্রæততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

"জ্ঞানচর্চা ও বিতরণই বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান কাজ। মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও পরমতসহিষ্ণুতা ব্যাহত হলে বিশ^বিদ্যালয় তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। আবরারের এই নিষ্ঠুর হত্যাকাÐ বিশ^বিদ্যালয়ের কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থীর চরম অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ; যা বিশ^বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও চিন্তাচেতনার পরিপন্থি। দুঃখের বিষয় এই যে, গত কয়েক দশকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে অসহিষ্ণুুতার চর্চা চলছে। সমাজপরিসরে বিদ্যমান নীতিহীনতা, বিবেকশূন্যতা ও চিন্তাজগতের আড়ষ্টতা আমাদের এক অজানা গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যমান এই পরিস্থিতির প্রতিকার না হলে জাতি হিসেবে আমরা অন্তঃসারশূন্য ও দেউলিয়া হয়ে পড়বো।

আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে অপার সম্ভাবনা Ñ যেমনটি ছিলো আবরারেরও। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর চিন্তার জগতে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত না করা গেলে এবং শিক্ষাঙ্গনে সহিষ্ণু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে না পারলে আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা দায়বদ্ধ থাকবো। সকল রাজনীতিবিদ, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং নাগরিক সমাজসহ সকলের নিকট আমাদের উদাত্ত আহŸান Ñ আসুন, আমরা সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে শিক্ষাঙ্গনকে প্রকৃত মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করি এবং সকলে মিলে শিক্ষাঙ্গনে সহিষ্ণু পরিবেশ সৃষ্টির কার্যকর উদ্যোগ নিই। আমরা চাই বিশ^বিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠুক শিক্ষাবান্ধব, নিরাপদ ও মানবিক।"

"মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আবরারের হত্যাকারীদের অতিদ্রæত বিচারের আওতায় আনার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা প্রত্যাশা করি দ্রæততম সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকাÐের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে। "