ডাকসু কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-12-04 00:56:01 BdST | Updated: 2020-01-29 16:44:23 BdST

ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্রলীগ মনোনীত এজিএস পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘‘ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সবার কেন এত আগ্রহ তার জবাব আছে ইতিহাসে৷ এই জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডাকসুর অবদান সবার জানা৷ সামরিক ও স্বেরশাসনের বিরুদ্ধেও ডাকসু লড়াই করেছে৷ এখানে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁরাই পরবর্তীতে রাজনীতি, প্রশাসনসহ রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন জায়গায় নেতৃত্ব দিয়েছেন৷’’

তবে তিনি বলেন, ‘‘একটি রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অবদানকে সম্মান জানিয়েই বলছি, এখন সময় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একাডেমিক এবং গবেষণার বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার৷’’

বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট হয়েছে যে, ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যগত কিছু কারণে ডাকসু নিয়ে এত আলোচনা, এত আগ্রহ৷ এই কারণগুলো হচ্ছে:

১. বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীকার আন্দোলন স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আদোলনে ডাকসু সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছে৷

২. ডাকসু নেতৃত্ব তৈরি করে৷

৩. গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার থাকে৷

৪. ডাকসু একটি স্বাধীন এবং সার্বজনীন ফোরাম৷

৫. ছাত্রদের অধিকার আদায়ে কাজ করে৷

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ১৯৮৯ সালে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন৷ তিনি এখন গণফোরামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত৷ এবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন৷ তাঁর মতে, ‘‘ডাকসুকে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ হিসেবে বিবেচনা করলে এর গুরুত্ব বোঝা যাবেনা৷ ডাকসু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে কাজ করেছে৷ ভাষা আন্দোলন, স্বাধীকার আন্দোলন, স্বাধীনতার আন্দোলন - সব আন্দোলনেই ডাকসু নেতৃত্ব দিয়েছে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘এখান থেকেই জাতীয় রাজনীতির যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে৷ তাঁরা দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির একটা কারখানা হলো ডাকসু৷ শুধু রাজনীতি নয়, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এবং উন্নয়নের ধারায় ডাকসু সবসময়ই সক্রিয় ছিল৷ তারা ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছে সব সময়৷ কথা বলেছে শিক্ষা এবং শিক্ষার অধিকার নিয়ে৷ আর এসব কারণেই ডাকসু এত গুরুত্বপূর্ণ।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি মনে করেন, ‘‘গত ২৮ বছর ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে এক ধরণের নেতৃত্বশূণ্যতা তৈরি হয়েছে৷ তরুণ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসছেনা৷ আর ডাকসু নির্বাচন এত দিন না হওয়ায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ ছাত্র সংসদগুলোতেও কোনো নির্বাচন হয়নি৷ ফলে আঞ্চলিক এবং স্থানীয় পর্যায়েও তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ হয়নি৷’’