ঢাবির সাত কলেজের 'ডিজিটাল সমাবর্তন'!


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-12-05 13:55:41 BdST | Updated: 2020-01-26 09:02:38 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একই দিনে অতিথিদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমাবর্তনে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, উচ্চশিক্ষায় সমাবর্তন বড় একটা সম্মানের বিষয়। সেখানে ভিডিও কনফারেন্সর মাধ্যমে ঢাবির সঙ্গে একই দিনে সমাবর্তন একটা অপমানজনক বিষয়। এজন্য ভিন্ন দিনে অতিথিদের উপস্থিতে সমাবর্তনের দাবি জানিয়েছে অধিভুক্ত কলেজের এসব শিক্ষার্থীরা।

এদিকে আগামী ০৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এ সমাবর্তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীভূত ও অধিভুক্ত কলেজ এবং ইনস্টিটিউটের ২০ হাজারের বেশি গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হবে। সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সভাপতিত্ব করবেন। এ সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পদার্থে নোবেল বিজয়ী জাপানের তাকাকি কাজিতা।

আসন্ন ৫২ তম সমাবর্তনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে ঢাবি প্রশাসন। অন্যদিকে একইসঙ্গে অধিভুক্ত সাত কলেজের সমাবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজ ভেন্যু। এতে প্রায় সাত কলেজের নয় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিবে। অধিভুক্ত সাত কলেজের ইডেন কলেজ ও বদরুন্নেছা মহিলা কলেজ ইডেন কলেজ ভেন্যুতে এবং বাকি পাঁচ কলেজ ঢাকা কলেজ ভেন্যু থেকে স্ক্রিনে ঢাবির মূল সমাবর্তনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ থেকে ১৮ আগস্ট ২০১৯ তারিখের মধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল অর্জনকারী গ্র্যাজুয়েট ও পদকপ্রাপ্তগণ ৫২তম সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারিবে। ঢাবিসহ অধিভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্র্যাজুয়েটরা ঢাবি ভেন্যুতে সমাবর্তনে অংশ নিবে। অপরদিকে অধিভুক্ত সাত কলেজের গ্রাজুয়েটগন যথাক্রমে ইডেন কলেজ ও ঢাকা কলেজে ভেন্যুতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্ক্রিন সমাবর্তনে অংশ নিবে।

আসন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ তম সমাবর্তনকে ঘিরে অসন্তোষ দেখা যায় অধিভুক্ত সাত কলেজের সমাবর্তনে অংশ নিতে যাওয়া গ্র্যাজুয়েটদের মাঝে। তারা ঢাবি থেকে আলাদা দিবসে সমাবর্তন চেয়ে সমাবর্তন বর্জনের ডাক দিলেও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের আশ্বাসে পরে তা ফিরিয়ে নেয়।

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমাবর্তনের জন্য সমান ফি পরিশোধ করার পরও তাদের কোন সম্মানিত অতিথির উপস্থিতি ছাড়াই স্ক্রিন সমাবর্তনে অংশ নেওয়াটা বরাবরের মত অপমান জনক মনে করছেন তারা।

ইডেন কলেজ থেকে সদ্য স্নাতক পাশ করা মারিয়া বলেন, আমরা ঢাবির সাথে নয়, ঢাবি থেকে আলাদা দিনে সাত কলেজের যেকোনো এক ভেন্যুতে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ অতিথির উপস্থিতিতে সমাবর্তন করতে চাই। এভাবে সমাবর্তন নিয়েও আমাদের সঙ্গে তামাশা করার কোন মানে হয় না।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আদনান মাহফুজ বলেন, আমাদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ ফি নেওয়া হয়। কিন্তু সমাবর্তন লাইভ স্ক্রিনে দেখানো হয়। যা আমরা বাসায় বসেই টিভিতে উপভোগ করতে পারি। এটা কোন সমাবর্তন হতে পারে না।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী জুয়েল রানা বলেন, এটা স্পষ্ট বৈষম্য, স্ক্রিনে সমাবর্তন কেন হবে? ভিন্ন ভেন্যুতে ভিন্ন দিনে সাত কলেজের সকল কলেজকে একসাথে দেওয়াটা আমাদের সকলের দাবি। এ নিয়ে আমরা অধ্যক্ষের সাথে কথা বললেও তিনি এর সুস্পষ্ট সমাধান দিতে পারেন নি। আশা করি ছোটরা এই বৈষম্যমুলক সমাবর্তনের প্রতিবাদ করবে এবং কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বুঝাতে সক্ষম হবে।

সাত কলেজ আন্দোলনের সমন্বয়ক ঢাকা কলেজ মাস্টার্সের শিক্ষার্থী একেএম আবুবকর বলেন, উচ্চশিক্ষায় সমাবর্তন বড় এক প্রাপ্তির বিষয়। এক্ষেত্রে আমরা যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষার্থী, সেক্ষেত্রে আমাদের ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি সমাবর্তনের বিষয়টাতেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজেদের সমাবর্তনে আচার্য-উপাচার্য নিয়ে সমাবর্তন করবেন আর এদিকে সাত কলেজের গ্রাজুয়েটদের সমাবর্তনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তারা বক্তব্য রাখবে এসব আসলে শোভা পায় না। যদি একই দিনে সবার সমাবর্তন করতে হয় তাহলে ঢাবিতে যেভাবে আচার্য-উপাচার্য উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান করেন, সাত কলেজেও এভাবে তাদের উপস্থিতি থাকবে হবে। এছাড়া ঢাবি থেকে ভিন্ন দিনে সাত কলেজ সমাবর্তনের কথা বলছেন এ ছাত্র নেতা।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও সরকারি সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট) আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো পরামর্শ, অভিযোগ থাকতে পারে। আমরা তাদের মতামতকে সম্মান করি। তবে আমি মনে করি, সমাবর্তনের বিষয় নিয়ে এ ধরণের বিতর্ক সৃষ্টি করা ঠিক নয়। আমরা আপাতত শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এসব বিষয় নিয়ে আমরা ভবিষ্যতে ভেবে দেখবো।