যবিপ্রবির ৬ শিক্ষার্থী নানা মেয়াদে বহিষ্কার


Jessore
Published: 2020-02-19 03:19:13 BdST | Updated: 2020-04-05 08:59:34 BdST

শিক্ষক নিয়োগে বাধা, উপাচার্যের কার্যালয়ে হামলা, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাদাচরণ ও র‌্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অপরাধে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) দুই শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কৃত হয়েছেন আরও চারজন।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডের ৫৯তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সনদে অসামঞ্জস্য পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি-মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিজেন্ট বোর্ডের সভায়, যবিপ্রবির উপাচার্যের কার্যালয়ে বারবার আক্রমন, শিক্ষক নিয়োগে বাধা প্রদান, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাদাচরণ প্রমাণ হওয়ায় ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী একরামুল কবীর দ্বীপ এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তর দে শুভকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়।

একই অভিযোগে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা আজমিরা এরিন ও ইসমে আজম শুভকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হলেও তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এ আদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে সভা থেকে জানানো হয়, এরমধ্যে তারা যদি কোনো ধরনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শাস্তি কার্যকর হয়ে যাবে।

এই ঘটনায় জড়িত অন্য শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাওয়ায় তাদের মানবিক দিক বিবেচনায় ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

রিজেন্ট বোর্ডের সভায়, র‌্যাগিংয়ে জড়িত থাকায় ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান ও রায়হান উদ্দিনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া অন্যদের লঘুদণ্ডের অংশ হিসেবে সতর্ক নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যুক্ত হওয়ায় বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায়ও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

যবিপ্রবির উপাচার্য ও রিজেন্ট বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) জাবেদ আহমেদ, যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. এম এ রশীদ, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা আমীর হোসেন, যবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান, কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ, সরকারি এম এম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ আবু কাওসার, সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তোরাব মোহাম্মদ হাসান, যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবসহ অন্যরা।