ঢাবির ৩০৩ শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে ডিইউডিএস


ঢাবি টাইমস
Published: 2020-05-08 17:09:40 BdST | Updated: 2020-08-11 09:08:59 BdST

বাংলাদেশের জন্ম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতিটি সংকটে সাহসের নজির রাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্বজুড়ে চলমান করোনা মহামারির সময়েও সেই ধারার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে ব্যতিক্রম ঘটেছে চিন্তায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বিতর্ক সংগঠন ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি’ (ডিইউডিএস) এমন এক উদ্যোগ নিয়েছেন যার প্রশংসা করেছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

গত ১৮ মার্চ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ আবাসিক হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন শিক্ষার্থীরা। ঘরে ফিরে গেলেও টানা লকডাউনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারে শিক্ষার্থীরা উভয় সংকটে পড়েন। একদিকে ঘরে খাদ্যের অভাব অন্যদিকে বাইরের মানুষের কাছে হাত পাতার লজ্জা। অভাব চেপে রেখে ‘ভাল আছি’ বলা সে সব নিন্ম ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের কাছে ডিইউডিএস আবির্ভূত হয়েছে অভয় বাণী নিয়ে। ‘পাশে আছি বন্ধু’ স্লোগান নিয়ে ‘সংকটকালীন বৃত্তি’ দিয়ে যাচ্ছে বিতার্কিকদের প্রাণের এই সংগঠন।

কোন ধরণের সেলফি কিংবা প্রচার ছাড়াই সাহায্য নেওয়া শিক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রেখে নিরবে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছে ডিইউডিএস। গত ৩ এপ্রিল থেকে ‘ডিইউডিএস’ যুক্তির লড়াই ছেড়ে মানবতার লড়াইয়ে সক্রিয় রয়েছে। গত ৭ মে পর্যন্ত ২৫১ জনকে সহায়তা দিয়েছে সংগঠনটি। এ পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮৩৫ টাকার বৃত্তি প্রদান করেছে। এর বাইরে আরো ৫২ জনকে অনান্য মাধ্যম থেকে সহায়তার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

সর্বপ্রথম শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ডিইউডিএস যে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে তা এখন ছড়িয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট, অনুষদ ও হলসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে। টিউশনি বা খণ্ডকালীন কোন কাজ করে যে সকল শিক্ষার্থীরা নিজেদের খরচ চালাতেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে এই কার্যক্রমে অনুদান দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নিজেও।

শিক্ষার্থীদের আত্মসম্মানের দিকে খেয়াল রেখে, রাখা হয়েছে পরিশোধের ব্যবস্থাও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আর্থিক সহায়তা নেয়া শিক্ষার্থী চাইলে সমপরিমাণ টাকা ফেরত দিতে পারবেন। তবে ফেরত দেয়ার সক্ষমতা না থাকলে ফেরত দেয়া বাধ্যতামূলক নয়। অন্যদিকে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের পরিচয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও চিফ মডারেটর ব্যতিত অন্য কাউকে জানানো হয় না এইটুকু নিশ্চিয়তা দিচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয় যত দিন খুলবে না, এই সংকট চলাকালীন সময়ে অামাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর পরিবারও যেদিন কষ্টে থাকবে না সেদিন পর্যন্ত অামাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। আমরা মূলত আমাদের সাবেক বিতার্কিদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে সংকটে পড়া শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছি।“কোন শিক্ষার্থীর মায়ের বদন মলিন হতে দেবনা" এই অঙ্গীকার নিয়ে সবার সম্মিলিত প্রয়াসে এগিয়ে চলেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির করোনা সংকটে আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম।

আশা করি যিনি এ সময়ে সংকটে ভুগছেন, তিনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে বিন্দুমাত্র সংকোচবোধ করবেন না। আমরা পরিচয় গোপন রেখে সাহায্য পৌঁছে দেব।’’

লেখক-
মোঃ অাবদুল্লাহ অাল ফয়সাল
সভাপতি, ডিইউডিএস।