অনলাইন ক্লাসে যাচ্ছে না শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়


Dhaka
Published: 2020-07-08 12:22:23 BdST | Updated: 2020-08-07 09:39:36 BdST

শিক্ষার্থীদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, ব্যয়বহুল ইন্টারনেট এবং কিছু প্রাতিষ্ঠানিক দূর্বলতার কারণে অনলাইন ক্লাসে যাচ্ছে না রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ গ্রাম বা মফস্বলে থাকে, দেশের এমন পরিস্থিতিতে যেখানে জীবন জীবিকা নিয়েই তাদের ভাবতে হচ্ছে, সেখানে উচ্চ মূল্যের ইন্টারনেট ব্যয় বহন করে অনলাইন ক্লাস তাদের জন্য কষ্টসাধ্য তবে সরকার যদি নেট ব্যয় বহন করে তবে তা শুরু করা সম্ভব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফজলুল করিম বলেন, কিছু কথা শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবতা আলাদা। আমার অনুষদের এতবেশি শিক্ষার্থী যে, তাদের সবাইকে অনলাইন ক্লাসে আনা অসম্ভব, একটা ছেলেও বঞ্চিত হলে তার অধিকার হরণ করা হবে।

তাছাড়া ওয়েবসাইটে লেকচার আপলোডের সুফল নিয়েও সন্দেহের কথা জানান তিনি।

বলেন, কিছু বিষয় যেখানে সরাসরি বুঝানোই কঠিন, সেটা অনলাইনে বা সিট দেখা শিক্ষার্থীরা কিভাবে বুঝবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ছুটি কমিয়ে অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে এ গ্যাপ পূরণ করা সম্ভব।

এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান জানান, কোনো ব্যাচ বা সেকশনের সকল শিক্ষার্থীরা যদি প্রস্তুত থাকে তাহলে আমরা চেষ্টা করবো।

আর অ্যানিমেল সাইন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রেজারার প্রেফেসর ড. আনোয়ারুল হক বেগ জানান, ঢাকায় অবস্থান ও লাখ লাখ টাকা দিয়েও যেখানে ক্যাম্পাসে নেটওয়ার্কের সমস্যা হয় সেখানে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের মেগাবাইট খরচ ও নেটওয়ার্ক প্রাপ্তি বড়ই কঠিন। তাছাড়া কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও কিছু জুনিয়র শিক্ষক গ্রামের বাড়ি চলে গেছে এটাও একটা বিষয়।

তবে এসবের ঠিক উল্টো চিত্র বিশ্ববিদ্যালয়টির ফিসারিজ এন্ড একোয়াকালচার অনুষদের, অনুষদটির ডিন প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবীব তাদের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানান, বিভিন্ন লেবেলের আলাদা ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে, সেখানে নিয়মিত লেকচার পিডিএফ আকারে দেওয়া হচ্ছে। কুইজ বা উপস্থিতির মার্ক শিথিল করে কিছু এসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে এবং তার উপর ভিত্তি করে দ্রুত গ্রেড দিয়ে দিচ্ছি যাতে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ পায়।

পাশাপাশি কঠিন টার্মগুলোর ক্ষেত্রে ছোট ভিডিও ও একটা নির্দিষ্ট সময়ে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্ল্যান করেছি।

এতে প্রায় ৮০% শিক্ষার্থীর সাড়া পেয়েছি আর যারা অংশ নিতে পারছে না তাদের সাথে কথা বলে বিকল্প চিন্তা করছি। এতে কাউকে চাপ দেওয়া হচ্ছে না, অল্প শিক্ষার্থী হওয়ায় তাদেরকে মোটিভেশনাল স্পিচ ও শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।

এসব সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য ড. সেকেন্দার আলী বলেন, বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু থিউরি ক্লাস অনলাইনে নেওয়া হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা প্রায় ৭০% লেকচার ওয়েবসাইটে দিয়েছি যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত সেমিস্টার শেষ করা যায়।