নুরদের বিরুদ্ধে মামলার বাদী ঢাবি ছাত্রী করোনা ইউনিটে ভর্তি


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Published: 2020-10-19 20:43:30 BdST | Updated: 2020-11-29 02:15:22 BdST

নুরুল হক নুরদের বিরুদ্ধে মামলা করা তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্ট ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে তিনি অনশন করছেন।

নুরুল হক নুরদের বিরুদ্ধে মামলার বাদীকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছ। আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে ১১ দিন ধরে অনশনে থাকা তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার রাত দেড়টায় ১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে হাসপাতালে নেয়া হয় ওই তরুণীকে। গত ৮ অক্টোবর থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পাদদেশে অনশনে আছেন। তাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছিল।

ওই তরুণীর কর্মসূচিতে সংহতি জানানো ইফফাত আরা বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে মেয়েটি জ্বরে ভুগছিল। আমরা সবাই অনেক রিকোয়েস্ট করি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি অনশন ছেড়ে যেতে রাজি হননি। কাল রাতে জ্বরের ঘোরে আবোলতাবোল করতে থাকলে আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যাই। এখনও তিনি সেখানেই আছেন।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিউল ফুয়াদ বলেন, ‘তাকে করোনা সাসপেক্ট ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। করোনাসহ ডেঙ্গুর টেস্ট করানো হয়েছে। এখনো রেজাল্ট আসেনি।’

ফুয়াদ বলেন, ‘অনশনের কারণে শারীরিকভাবেও তিনি খুব দুর্বল। এর আগের বার যখন হাসপাতালে ভর্তি হলো, আমরা সাজেস্ট করেছিলাম অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পরিচর্যায় থাকার জন্য। কিন্তু তিনি রাজি হয়নি। অনশনস্থলে ফিরে গেছে। কিন্তু এবার তার রিস্ক আরও বেশি।’

অনশনের চতুর্থ দিন গত ১১ অক্টোবর ওই তরুণীকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছিল। সেদিন তিনি ক্রমাগত বমি করতে থাকেন। অনেকটা অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা শেষে ফিরে আসেন আবার অনশন স্থলে।

এই তরুণী গত ২০, ২২ ও ২৩ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, তার সংগঠনের সাবেক আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হাসান সোহাগ ছয় জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেন।

গত ৮ অক্টোবর থেকে অনশনে নুরদের বিরুদ্ধে মামলার বাদী নুরুল হক নুরসহ ছয় আসামিকে গ্রেফতারের দাবিতে ৮ অক্টোবর থেকে অনশন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণী।

প্রথম মামলায় অভিযোগ করা হয় মামুন তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছেন। নুরকে জানানো হলে তিনি প্রথমে মীমাংসার আশ্বাস দেন। পরে চুপ হয়ে যেতে বলে হুমকি দেন। বলেন, কথা না শুনলে অনলাইনে ‘পতিতা’ বলে প্রচার চালাবেন।

দ্বিতীয় মামলায় বলা হয়, মামুনের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে বাদীকে চাঁদপুর নিয়ে যান সোহাগ। ফেরার পথে তিনিও ধর্ষণ করেন।

তৃতীয় মামলায় আনা হয় সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ।

দুই আসামি সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল হুদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে বাদী বলেছেন, সবাইকে গ্রেফতার না করলে তিনি অনশন ভাঙবেন না।

নুরের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। মামুন ও সোহাগ পলাতক।

এদের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের বিদ্রোহী নেতা এ পি এম সুহেল অবশ্য জানিয়েছেন, ওই তরুণীর অভিযোগের সত্যতা আছে। তিনি অভিযোগ করার পর পরিষদে এ নিয়ে অনেক বৈঠক হয়েছে। মামুনই মেয়েটিকে আদালতে যেতে বলেছেন।