ঢাবির সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল


Dhaka
Published: 2020-11-20 11:48:26 BdST | Updated: 2020-12-06 07:29:54 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত সান্ধ্য কোর্সের ভর্তি পরীক্ষার জন্য ডেকে, আজ শুক্রবার শুরু হওয়ার মাত্র আধ ঘণ্টা আগে বাতিল করলো ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ।

শুক্রবার সকালে ক্যাম্পাস টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একাধিক অধ্যাপক।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি সান্ধ্যকোর্স আছে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে, এসব অনিয়মিত কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার কথা থাকলেও গোপনে তারা ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করেছিল।

শুক্রবার পরীক্ষা গ্রহণে সহযোগিতা চেয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর শিক্ষকদের এই চিঠি পাঠিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুল মঈন।

মহামারীর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সরাসরি ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই সান্ধ্যকালীন এমবিএ কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ।

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অনিয়মিত কোর্সে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে লংঘন করা হচ্ছে।

ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণে সহযোগিতার জন্য ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের পাঠানো অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুল মঈন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি থেকে জানা যায়, শুক্রবার (২০ নভেম্বর) আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের এমবিএ (ইভনিং) প্রোগ্রামের (৪৫তম ব্যাচ) ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় এই পরীক্ষা নেওয়া হবে জানানো হয়েছিল।

শুক্রবার পরীক্ষা গ্রহণে সহযোগিতা চেয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর শিক্ষকদের এই চিঠি পাঠিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুল মঈন।

শুক্রবার পরীক্ষা গ্রহণে সহযোগিতা চেয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর শিক্ষকদের এই চিঠি পাঠিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুল মঈন।

তবে এই পরীক্ষার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এই পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, “বিষয়টা আমাদের জানানো হয়নি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানার পর আমি ডিন সাহেবের সাথে কথা বলেছি। পরীক্ষাটা ক্যাম্পাসে হবে না শুনেছি। তবে এটা কোন ধরনের পরীক্ষা, কাদের পরীক্ষা, কোন পদ্ধতিতে হচ্ছে এই পরীক্ষা, বিষয়গুলো আমি জানতে চেয়েছি। উনি বলেছেন, কাল আমাকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। প্রকৃত তথ্য না জেনে তো কথা বলা কঠিন।”

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আব্দুল মঈনকে একাধিকবার ফোন করে এবং এসএমএস পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত ১৮ মার্চ থেকে আবাসিক হলসহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

মহামারী দীর্ঘায়িত হতে থাকায় শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের চলমান সেমিস্টার শেষ হলেও নানা সীমাবদ্ধতা ও জটিলতার কারণে পরীক্ষা নিতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে পরীক্ষা ছাড়াই পরের সেমিস্টারের জন্য অনলাইনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তার মধ্যেই সান্ধ্যকোর্সে ভর্তির এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি করারই কথা নয়।

গতবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সান্ধ্যকোর্সের সমালোচনা করার পর এসব কোর্সের যৌক্তিকতা যাচাই ও পর্যালোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদের ডিনদের নিয়ে একটি কমিটি করা হয়।

ওই কমিটি গত ৯ ফেব্রুয়ারি সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। আর এ নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত এসব কোর্সে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িক বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায়ও এই সিদ্ধান্ত হয়। নীতিমালা প্রণয়নের জন্য উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এর নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ওই নীতিমালা এখনও করা হয়নি।

সান্ধ্য কোর্স পর্যালোচনা ও যৌক্তিকতা যাচাই কমিটির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩৫টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সান্ধ্যকোর্স আছে।

মাস্টার্স, ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট, ট্রেনিং কোর্সসহ অনিয়মিত এসব কোর্সের সংখ্যা ৬৯। এর মধ্যে ৫১টি মাস্টার্স, চারটি ডিপ্লোমা, সাতটি সার্টিফিকেট আর সাতটি ট্রেনিং কোর্স।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কোর্সের বাইরে ১০৫টি ব্যাচে এসব কোর্সে বছরে সাত হাজার ৩০২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের ক্লাস নেন ৭২৫ জন শিক্ষক।

সবচেয়ে বেশি সান্ধ্য কোর্স আছে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে। এই অনুষদের নয়টি বিভাগের প্রতিটিতেই সান্ধ্য কোর্স আছে। এসব কোর্সে প্রতিবছর ৪৫টি ব্যাচে দুই হাজার ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। ক্লাস নেন ২৩০ জন শিক্ষক।