২০১৮ সালেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে উঠবে মেয়েরা


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2017-12-04 09:44:06 BdST | Updated: 2017-12-14 08:12:24 BdST

অবশেষে যেন হলবিহীন সম্পূর্ণ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা মুছতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই মেয়েদের জন্য নির্মিতব্য বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের মাধ্যমে হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি হল পেতে যাচ্ছে জবি। আগামী ২০১৮ সালের মধ্যেই নির্মিতব্য এক হাজার আসন বিশিষ্ট একমাত্র ছাত্রী হলটিতে মেয়েরা উঠতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। রোববার (০৩ ডিসেম্বর) নির্মাণার্ধীন ছাত্রী হলটি পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এমন কথা জনান তিনি।

এসময় তিনি বলেন, আমিতো নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে এমন অল্প জায়গায় হল বানানো সম্ভব। কিন্তু ছাত্রী হলটিতে গিয়ে দেখলাম অনেক কাজ হয়ে গেছে। আমি বিস্মিত হয়ে গেছি। কাজের গতি দেখে মনে হচ্ছে আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে হলটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যাবে এবং ছাত্রীদের কাছে তাদের আবাসন বুঝিয়ে দেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, প্রথমের দিকে যখন কাজ শুরু হয়, তখন জায়গার সংকটের কারণে কাজ এগোতে পারছিল না। মিরপুর থেকে মিক্সার এনে, সেটা আবার রাত একটা পর্যন্ত জ্যামে থেকেও কাজটা এগিয়ে চলছে। কিন্তু এরপরও বেশ দ্রুত দশম তলা হয়ে গিয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে আসবাবপত্র তৈরীর জন্য কাজ শুরু করতে বলেছি।

এদিকে অনাবাসিক জবিতে আবাসন ব্যবস্থা হচ্ছে এতে আনন্দের উচ্ছ্বাসে ভাসছে শিক্ষার্থীরা। বহুল প্রত্যাশিত পুরান ঢাকায় নিজ ক্যাম্পাসের পাশে আবাসিক হল যেন অন্যরকম প্রাণের আমেজ দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের মনের উচ্ছ্বাস। ইতিহাস বিভাগের ১১তম ব্যিাচের শিক্ষার্থী সানজিদা বলেন, আমাদের বহু আন্দোলন আর ত্যাগের বিনিময়ে আমরা হল পেতে যাচ্ছি, যা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। এখন থেকে আর কেউ আমাদের বলতে পারবে এটা অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা চাই ধীরে ধীরে এগিয়ে যাক আমাদের প্রাণের এই প্রতিষ্ঠান।

সমাজবিজ্ঞান ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী তমা রহমান বলেন, আমরা হয় তো এ হলে থাকতে পারবো না কিন্তু আমাদের জুনিয়ররা তো থাকতে পারবে। এটাই আমাদের সান্ত্বনা। আমরা গর্ব করতে পারব যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও হল আছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কাজের শর্ত অনুযায়ী আগামী বছরের জুনে জবি প্রশাসনকে হল বুঝিয়ে দেয়ার কথা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জবি ছাত্রলীগের তৎকালীন আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আকন্দের নেতৃত্বে ৩/১, লিয়াকত এভিনিউয়ের ২৩ কাঠা জায়গাটির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে শিক্ষার্থীরা। তারা ওই সময় ছাত্রী হলের ব্যানার টাঙিয়ে জায়গাটি দখলে নেন। ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট জায়গাটিতে ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ ছাত্রী হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। ওইদিন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠকে এক হাজার ছাত্রীর আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০তলা ফাউন্ডেশনের দুটি টাওয়ার নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হয় তবে এখন ২০ তলা ভিত্তির উপর ১৬ তলা ভবন নির্মিত হবে।

আরএম/ ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।