পরিবহণ সংকটে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা


সরকার আব্দুল্লাহ তুহিন
Published: 2017-12-07 21:16:39 BdST | Updated: 2018-02-20 00:03:29 BdST

সকাল ৮টা বেজে ৫ মিনিট, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের ছাত্রী রূপা ধর দাঁড়িয়ে আছেন ময়মনসিংহ শহরের বাউন্ডারি রোডের মাথায়, অপেক্ষা করছেন ‘প্রভাতী’র জন্য। ‘প্রভাতী’ তার কোন বান্ধবী বা কেউ নয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস। ময়মনসিংহ টাউন হল মোড় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলাচলকারী এ বাসটি নির্দিষ্ট সময়েই এসে দাঁড়াল। ছুটে গেলেন রূপা, ধাক্কাধাক্কি করে কোনোভাবে নিজেকে দরজা পর্যন্ত ঠেসে ঢোকালেন। কাঁধে ব্যাগসমেত এক হাতে বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলতে ঝুলতে তাকে যেতে হলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অবধি। শুধু রূপা নয়, তার মতো অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বাসের দরজায় ঝুলে প্রতিদিন সকাল-বিকাল ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ হাজারেরও অধিক। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র ২টি আবাসিক হল। আবাসিক হল পর্যাপ্ত না থাকায় শিক্ষার্থীদের থাকতে হয় স্থানীয় ব্যক্তি মালিকানাধীন মেস এবং ময়মনসিংহ শহরের মেস ও হোস্টেলে। শিক্ষার্থীদের বৃহৎ অংশ ময়মনসিংহ শহর থেকে যাতায়াত করে। তাই নির্ভর করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার উপর। ক্যাম্পাসে আনা-নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক নিজস্ব বাস না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাসেরও ব্যবস্থা করেছে। পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী রূপা ধর বলেন, ক্যাম্পাসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ‘প্রভাতী’ বাস ছাড়ে টাউন হল মোড় থেকে। বাস তো ওখানেই ভরে যায়। বাউন্ডারি রোড থেকে সিট পাওয়া যায় না বলে আমি অনেক সময় রিকশা ভাড়া করে টাউন হল মোড়ে চলে যাই, তবে সব দিন সম্ভব হয় না। বাসা থেকে বেরোতে দেরি হলে সেখানে যাওয়া আর সম্ভব হয় না। তখন বাদুড়ঝোলা হয়ে ভার্সিটিতে আসি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন কার্যালয় জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টি বিভাগের বিপরীতে শিক্ষার্থী সংখ্যা পাঁচ হাজারের অধিক এবং শিক্ষক একশত পঞ্চাশ জন। যার বড় একটি অংশ থাকে ময়মনসিংহ শহরে। বিশ্ববিদালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বাসের সংখ্যা মাত্র ১২ টি। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস রয়েছে ৪টি, বাকী ৮টি বাস ই ভাড়াকৃত। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে ৩টি মিনি বাস। চিকিৎসা ক্ষেত্রে জরুরী ব্যবহারের জন্যে রয়েছে মাত্র ১টি এ্যাম্বুলেন্স।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অল্পসংখ্যক পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে ভুগান্তিতে পরতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। মাত্র ১টি এ্যাম্বুলেন্স হওয়ায় জরুরী সময়ে একজনের অধিক অসুস্থ হলে তা পাওয়া যায় না।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে নিযুক্ত চালকের সংখ্যা গাড়ির থেকে একজন কম রয়েছে বলে জানান এক পরিবহন কর্মকর্তা। ফলশ্রুতিতে সময়মতো চালকও পাওয়া যায়না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাসুদ রানা বলেন, আমরা পরিবহন সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছি, দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে আমরা সফল হবো। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬ সালের এক অনুষ্ঠানে আমাদের শিক্ষার্থীদের বাস দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমরা সেই বিষয়ে দাপ্তরিক ভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। নতুন এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় করার জন্য প্রস্থাবের ভাবনা আমরা করেছি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী ও জাতীয় শিশু দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এম.পি। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রেক্ষিতে বাস উপহার দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। তবে প্রায় দু’বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি মন্ত্রীর দেয়া আশ্বাস।

জেডএম/ ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭

Loading...

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।