জিডি করতে গিয়ে ঢাবি ডিবেটিংয়ের প্রেসিডেন্ট শাহবাগ থানায় লাঞ্চিত


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-01-15 01:55:30 BdST | Updated: 2018-02-21 08:48:45 BdST

ডিবি পরিচয়ে প্রতারিত হয়ে টাকা খোয়ানোর পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে পুলিশের হেনস্তার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলেন— ঢাবি ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ও ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মাহমুদ আবদুল্লাহ বিন মুন্সী ও মার্কেটিং বিভাগের তানভির হোসেন। তানভির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সদস্য। প্রতারণার শিকার হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে থানায় জিডি করতে গিয়েছিলেন ওই সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ আবদুল্লাহ বিন মুন্সী।

মাহমুদ আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আজ বিকেলে তানভিরের মায়ের মুঠোফোনে ডিবি পরিচয়ে একজন কল করে বলেন যে, তানভিরকে তাঁরা আটকে রেখেছেন। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি রকেট নম্বর দিয়ে দ্রুত তাতে ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। ওই সময় তাঁর মা তানভিরের নম্বরে কল করেন, কিন্তু তিনি তখন ক্লাসে ছিলেন বলে কল ধরতে পারেননি। পরে তিনি টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে বিষয়টি জেনে তানভিরকে নিয়ে তাঁর মা শাহবাগ থানায় জিডি করতে যান। সেখানে কর্তব্যরত কর্মকর্তা জিডি নিতে গড়িমসি করেন। তাঁদের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাসের কাছে যেতে বলেন ওই কর্মকর্তা।

মাহমুদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘জাফর আলী সাহেবের কাছে গেলে তিনি আমাদের অনেক সময় দাঁড় করিয়ে রাখেন। তিনি আমাদের কথা শুনছিলেন না। কেন শুনছেন না, জানতে চাইলে একপর্যায়ে তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং আমার গায়ে হাত তোলেন। আমাকে টেনে-হিঁচড়ে তার চেয়ারের সামনে নিয়ে অপমানিত করেন।’

তানভির হোসেন  বলেন, ‘জিডি করতে গেলে শাহবাগ থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা সাইবার ক্রাইমে ইউনিটে যেতে বলেন। জিডি নেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি জাফর আলীর কাছে পাঠান। কিন্তু তিনি আমাদের হেনস্তা করেন। এরপর সেখান থেকে বের হয়ে আমরা বেইলি রোডের পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে গেলে সেখান থেকে জিডির কপি চাওয়া হয়। জিডি করতে আবার শাহবাগ থানায় এলে তাঁরা আবার পুলিশ হেডকোয়ার্টারে যেতে বলে। তখনো তারা জিডি নিতে চাননি। আর জিডি নিলে লেখা পরিবর্তন করতে বলেন। এরপর আমরা থানা থেকে চলে আসি।’

জানতে চাইলে জাফর আলী বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। এমন হওয়ার কথা নয়। তাঁর কাছে গেলে তিনি বিষয়টি দেখবেন।

পরে রাত ১০টার দিকে তানভির হোসেন থানায় ওসির কাছে যান। তানভির জানান, ‘ওসি সাহেব আমাকে বলেছেন, এ ঘটনায় জিডি হবে না। কাল গিয়ে যেন মামলা করি। আর অভিযুক্তের বিষয়ে কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন।’

এদিকে ঘটনা পরবর্তী সময় থানায় গিয়েছিলেন টিএসসি ভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের ৮০-৯০ জন শিক্ষার্থী। এসময় ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা বলেন, আমরা আগামীকাল লিখিত অভিযোগ দিব। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যদি যথোপোযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয় আমরা এর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব।     

বিডিবিএস

Loading...

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।