অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের বহিস্কার দাবি

ছাত্রী নিপীড়নের বিচার দাবিতে ঢাবি প্রক্টর অফিস ঘেরাও


ঢাবি প্রতিনিধি
Published: 2018-01-17 14:36:04 BdST | Updated: 2018-08-21 10:17:41 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম সমন্বয়ক মশিউর রহমান সাদিককে নির্যাতন ও আন্দোলনরত ছাত্রীদের শারীরিকভাবে হেনস্তাকারীদের শাস্তির দাবিতে প্রক্টর অফিস ঘেরাও করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। শেষে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয় ঘেরাও করে আন্দোলনকারীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরা সোমবার সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবি নিয়ে উপাচার্য অফিসের সামনে বৃত্তাকারে বসে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হেনস্তাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের আজীবন বহিস্কার দাবি করেন। এ সময় তারা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু হলের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন রহমানের বহিষ্কার, ছাত্রী নিপীড়নের বিচার ও আন্দোলনের সমন্বয়ক মশিউরকে কেনো পুলিশে দেওয়া হলো এর কারণ স্পষ্ট করতে হবে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছে আধাঘণ্টা সময় চেয়ে জানান, এ বিষয়ে তিনি উপার্চাযের সঙ্গে কথা বলবেন।

এদিকে একই দাবিতে ছাত্র ইউনিয়ন একটি মিছিল বের করে। মিছিল শেষে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তাদের দেখে প্রক্টর কার্যালয়ের কলাপসিবল গেইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা গেইট ভেঙে প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে তার কার্যালয়ের সামনে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

উল্লেখ্য সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবি নিয়ে উপাচার্য অফিসের সামনে বৃত্তাকারে বসে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে অভিনব কৌশলে তাদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলন পণ্ড করে দেন বলে অভিযোগ উঠে। সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উপাচার্য অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের নেতাকর্মীরা আসার পর আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে অভিনব কৌশল নেয় হলের নেতারা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা মেয়েদেরকে উদ্দেশ্য করে নোংরা কথার বলে এবং শারীরিকভাবেও হেনস্তা করতে থাকে। এর আগে এই আন্দোলনের সমন্বয়ক মশিউর রহমান সাদিককে মুখ চেপে ধরে মারতে মারতে উপাচার্যের অফিসে ঢোকান বঙ্গবন্ধু হলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান।

টিআই/ ১৭ জানুয়ারি ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।