জাবিতে ভালোবাসা দিবসে হিজরা বন্ধুদের মেহেদি উৎসব


জোবায়ের কামাল
Published: 2018-02-14 18:44:20 BdST | Updated: 2018-05-26 23:40:34 BdST

‘মেহেদীর রঙ্গে রঙ্গিন হোক ভালোবাসার নতুন রূপ’ স্লোগানকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাত রাঙ্গিয়ে দিয়েছেন ‘রূপান্তরকামী’ হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা। সবার জন্য বাড়িয়ে দিন ভালবাসার হাত এই প্রতিপাদ্যে উত্তরণ ফাউন্ডেশনে সহযোগীতায় হিজড়া সম্প্রদায়ের সংগঠন সাদাকালো বেউজড কমিউনিটি অগানাইজেশন এ আয়োজন করে।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন মহুয়া তলায় কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক এ মেহেদী উৎসবের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, আমরা পূর্ব থেকেই সমাজে প্রভাবশালী দুই শ্রেণীর মানুষেরা দীর্ঘকাল আপনাদের নিগৃহীত করে এসেছি। আপনারা নিজেদের চেষ্টায় এতদূর পর্যন্ত এগিয়ে এসেছেন বলে আপনাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি।

আয়োজনে ব্যাপক সাড়াও মিলেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন মেহেদী উৎসবে। এমন অভাবনীয় আয়োজনকে ধন্যবাদ জানিয়ে দর্শন বিভাগের জেসমিন আক্তার শিলা বলেন, আসলে তারা খুবই ভাল মানুষ। আমরা তাদের সম্পর্কে না জানার কারণে আগেই দূরত্ব তৈরী করছি। তারা সমাজে অবহেলিত শ্রেণী নয় বরং আমাদের মতই মানুষ এমন চেখে দেখা উচিত।

হিজরা সম্প্রদায়ের সদস্য সামিউল আলম শাম্মি বলেন, এখানে এসে অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। আমি আশা করিনি আমাদেরকে ছাত্রছাত্রীরা এভাবে গ্রহণ করে নিবে। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে মনেই হয়নি আমি হিজরা সম্প্রদায়ের মানুষ। বরং তাদের ব্যবহারের ফলে আমাকে এখানের শিক্ষার্থী মনে হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালযের তরুণরাই দেশের সম্পদ। তারা যদি আমাদেরকে মানুষের দৃষ্টিতে দেখে তাহলে আরো দশজন আমাদের দিকে মানুষের দৃষ্টিতে তাকাবে।

তাদের মধ্য থেকে আসা নাসিমা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ঠিক কিন্তু সরকার এখনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেনি। যেহেতু স্বীকৃতি দিয়েছে তাই আমাদের দক্ষতা ও যোগ্যতানুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে আমরা খুশি হবে।

আয়োজনের সমন্বয়ক নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, পরিবর্তন চাই মানসিকতার। কারণ লিঙ্গীয় ভিন্নতা মানুষের মধ্যে ভিন্নতা তৈরী করতে পারে না। এজন্য মানসিকতার পরিবর্তন করে এটাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে তাদেরকে যদি সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে তারাও মানুষের মত দাঁড়াতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, আমি চাই এদের মধ্য থেকে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হবে, আমার সহকর্মী হয়ে সমাজে ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যেন তারা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান যোগাতে সক্ষম হবে।

আয়োজনে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক মানস চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ নিজার আলম, অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, সহকারী অধ্যাপক আনিছা পারভীন জালি, পিংকি সাহা প্রমুখ।

টিআই/ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।