বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপন

বাংলাদেশের ৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিঙ্গেলদের বিক্ষোভ


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-02-14 23:29:54 BdST | Updated: 2018-05-22 02:12:45 BdST

প্রেম দিবসে বাংলাদেশের ১০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিঙ্গেল শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এসব বিক্ষোভ মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিক্ষোভ হয়েছে। 

মিছিল নিয়ে সিঙ্গেলরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন ছাত্রী হলের সামনে গিয়েও স্লোগান দিয়েছে বলে জানা গেছে। 

এ সময় বিক্ষোভে অংশ নেয়া সিঙ্গেলরা ‘দুনিয়ার সিঙ্গেল এক হও, লড়াই কর’; ‘কাপলদের বিরুদ্ধে, লড়াই হবে এক সাথে’; ‘কাপলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, চলছে চলবে’ সহ নানা স্লোগান দিতে থাকে। 

ভিডিওঃ ঢাবিতে পুঁজিবাদী প্রেমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

‘প্রেমিকার কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এমন স্লোগান শুনে ‘থ’ বনে যাওয়ারই কথা। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের আমেজে যখন চারদিক মাতোয়ারা; রঙে-বর্ণে, ফুলে ফুলে সেজেছে ক্যাম্পাস, তখন ‘ভালোবাসা ভালো না, মানি না, মানবো না’ স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।  

ভালোবাসা দিবসের এমন বিচিত্র ধরনের কর্মসূচি অবশ্যই এটাই প্রথম নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভালোবাসা দিবসে মিছিল করতে দেখা যায় প্রেম বঞ্চিতদের। সংগঠনের সেক্রেটারি রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কেনো এমন উদ্যোগ তাদের। তিনি জানান, আমরা চাই, প্রেম হোক সার্বজনীন। কেউ কেউ বাইক, ডিএসএলআরের জোরে ৫/৬টা করে প্রেম করছে। আর চেহারা খারাপ বলে, আর্থিক সঙ্গতি নেই বলে আমরা প্রেম করতে পারছি না।

আর সে কারণেই কিনা ‘পুঁজিবাদী প্রেমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ স্লোগানে রাকিবুলের মতো আরও এক ঝাঁক তরুণের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শুধু ছেলেরা নয়, বরং সিঙ্গেলস মেয়েরাও এই সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সেক্রেটারি রাকিবুল। কয়টি মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৭/৮ টা তো হবেই। তবে, ভালো বন্ধুত্ব থাকলে শেষ পর্যন্ত কেউ প্রেম করতে রাজি হয়নি।

‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেম বঞ্চিত সংঘ’ ব্যানার নিয়ে একটি মিছিল ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে তারা এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘কেউ পাবে, কেউ পাবে না, তা হবে না, তা হবে না’, ‘প্রেমের নামে প্রহসন বন্ধ কর’ এ রকম নানা হাস্যরসাত্মক স্লোগানে পুরো ক্যাম্পাস মাতিয়ে তুলে।

সমাবেশে প্রেম বঞ্চিত সংঘের সদস্যরা বক্তব্য দিতে গিয়ে অভিযোগ করে বলেন, কিছু তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতী একই সঙ্গে তিন-চারটি প্রেমের সম্পর্ক করছেন। ছেলেরা মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধোঁকা দিচ্ছে। তবু মেয়েরা বুঝতে পারছে না। কিন্তু সত্যিকার প্রেমিক হিসেবে তারা পছন্দের মেয়েদের প্রেমের পয়গাম নিয়ে গেলে কোনো কিছু না ভেবে, না বুঝেই মেয়েরা প্রত্যাখ্যান করে দিচ্ছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের নামে অশ্লীলতা প্রতিরোধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ সিঙ্গেল ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ শেষে জিরো পয়েন্টে এক সমাবেশে মিলিত হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফাঁকে ব্যতিক্রমী এক বিক্ষোভ মিছিল করেছে এই সংঘটনটি। বিক্ষোভে অংশ নেয়া সিঙ্গেলরা ‘কেউ পাবে কেউ পাবে না- তা হবে না, তা হবে না’ ‘চবির মাটি সিঙ্গেলদের ঘাঁটি’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

বিভিন্ন সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভণ্ড প্রেমিকের সংখ্যা বেড়ে গেছে। কেউ পাঁচটা-চারটা প্রেম করে আবার কেউ একটাও করতে পারে না। এর বিরোধিতায় আমরা সংঘবদ্ধ হয়েছি।

ঢাবি সিঙ্গেল সংগ্রাম পরিষদেরআহবায়ক এম এম আব্দুর রহমান বলেন, পুঁজিবাদের কালো ছায়া থেকে ভালোবাসাকে মুক্ত করতে হবে। এসব নানা আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল একটাই-নির্মল আনন্দ।

বিক্ষোভকারীদের ব্যানারগুলোও ছিল বেশ মজার। লেখা ছিল, 'কেউ পাবে আর কেউ পাবে না, তা হবে না, তা হবে না', 'ভালোবাসা আমার অধিকার, আমাকে ভালোবাসতেই হবে', 'এক দফা এক দাবি, প্রেম হোক সর্বজনীন' এ রকম নানা বক্তব্য।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এসব নিছকই মজা করা জন্য। পরের বছরই এরা আবার মিঙ্গেল হয়ে যায়। 

বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।