রাবির দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থিসিস জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি


রাবি টাইমস
Published: 2018-02-20 16:39:55 BdST | Updated: 2018-06-21 16:03:31 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠা থিসিস জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি। সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৬তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটি।

সেখানে থিসিস জালিয়াতি সংক্রান্ত কোনো সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় ওই দুই শিক্ষককে অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিন্ডিকেট সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট ২০১৭ তারিখে সিন্ডিকেটের ৪৭২তম সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উঠা পিএইচডি থিসিস রচনায় অনৈতিক পথ অবলম্বনের অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিটি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফকে কমিটির আহ্বায়ক ও ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবু বকর মো. ইসমাইল ও সিন্ডিকেট সদস্য ডা. রুস্তম উদ্দিন আহমেদকে সদস্য করা হয়।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে খণ্ডিত অংশ ব্যবহার করে ১৭/১৮ জন পি.এইচডি গবেষণায় নকলের ইঙ্গিত করা হয়। সেই সাথে ২৬ আগস্ট, ২০১৭ তারিখের রাজশাহীর একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় লিড সংবাদে ‘অসদুপায় অবলম্বন করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষকের পিএইচডি অর্জন!’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয় দুটো বিবেচনায় নিয়ে ২৭ আগস্ট ২০১৭ তারিখে সিন্ডিকেট সভায় একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. এম আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে সাদেক মাশরুর নামে এক ব্যক্তি পি.এইচডি থিসিস জালিয়াতির লিখিত অভিযোগ করলে একই সিন্ডিকেটে অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সেই সিন্ডিকেট সভার কার্যবিবরণীর ৬৭ নং সিদ্ধান্তে আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের পিএইচডি থিসিস রচনায় অনৈতিক পথ অবলম্বনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত কমিটি সোমবার ৪৭৬তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের সুপারিশ পেশ করেন।

গঠিত কমিটির প্রতিবেদন বিবেচনায়- কমিটি পুঙ্খানুপঙ্খ বিশ্লেষণ করে উল্লেখিত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাননি। যার ফলে অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান ও অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের পি.এইচডি ডিগ্রী ৪৭২তম সিন্ডিকেটের তারিখ অর্থাৎ গত ২৭ আগস্ট ২০১৭ তারিখ থেকে কার্যকরের সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবু বকর মো. ইসমাইল জানান, ‘আমরা ওই দুই শিক্ষকের থিসিস নিয়ে পুঙ্খানুপঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছি। তাদের থিসিসে তেমন কোনো অসঙ্গতি আমরা দেখতে পাইনি। তারা দুজনেই কমন সোর্স থেকে কোট ব্যবহার করেছিল। এসব বিষয়ে যাদের অভিজ্ঞতা কম, তারা হয়তো মনে করেছিল- থিসিস নকল করা হয়েছে। কিন্তু আসলে তা নয়।’

টিআই/ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।