বিশ্বসেরা তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রফেসর ঢাবির এই সাবেক শিক্ষার্থী


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2017-07-02 23:52:49 BdST | Updated: 2017-12-14 08:23:47 BdST

ছবিতে এই মানুষটি মনের আনন্দে ডিম ভাজি করছেন নিজের আরামপ্রিয় স্নেহের ছোট ভাইয়ের জন্য।
উনাকে দেখলে মনে হবে, একজন আটপৌরে বাবা রান্নাঘরে পরিবারের সাথে সুন্দর মুহুর্ত কাটাচ্ছে।
উনি আসলে কে জানেন?
উনার পরিচয় দেয়া শুরু করি।
উনার প্রথম পরিচয়, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের প্রথম ব্যাচের প্রথম ছাত্র অর্থাৎ ইন্টেক নং -১ রোল নং -১।
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের কলেজ ক্যাপ্টেইন ছিলেন।
মেট্রিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।
ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশ থেকে এক দল ছাত্র প্রথমবারের মত মস্কোতে যায় পড়াশোনার জন্য। এয়ারপোর্ট এর ইমিগ্রেশন অফিসার তখন বাংলাদেশকে চিনতেন না। বার বার জিজ্ঞেস করছিলেন- বাংলাদেশ কোথায়?
এই ভদ্রলোক তখন চিৎকার করে উঠেছিলেন- "আমরা বঙ্গবন্ধুর দেশ থেকে এসেছি!!"
সাথে সাথে ইমিগ্রেশন অফিসার সসম্মানে তাদেরকে যেতে দিলেনন।
কিন্তু নিয়তির অমোঘ সিদ্ধান্তে তিনি মস্কোতে পড়ালেখা শেষ করতে পারেন নাই। ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় দিনের অর্ধেকেরও বেশি সময়ে প্রচন্ড মাথাব্যাথায় কাঁতরাতেন।
এভাবেই কেটে যায় বেশ কয়েক বছর। এইদিকে তারই বন্ধুবান্ধবরা জীবনে স্ট্যাবলিশড। তিনি অসহ্য মাথাব্যথায় দিন যাপন করছেন। শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক পীড়ায় তিনি ভেঙ্গে পড়তে পারতেন। হার মেনে যেতে পারতেন সহজে।
কিন্তু না, উনি হার মানার মানুষ নয়।
এমন সময়ে ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ তে, সেখান থেকেই বি.এ ও এমবি.এ করলেন। পড়ালেখা শেষ করেই যোগদান দিলেন বিএমডিসিতে, অত:পর ফিন্যান্স এর লেকচারার হিসেবেই আইবিএ তে যোগ দিলেন।
সেভাবেই দিন কাটাতে পারতেন, আইবিএর শিক্ষক হিসেবে। কিন্তু আল্লাহতালা তার হাত দিয়ে মানুষের উপকার করতে চেয়েছিলেন।
সেইজন্য কয়েকবছর পর আমেরিকার প্রদেশ বোস্টনে চলে আসেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি করার জন্য। পিএইচডির সাবজেক্ট ছিলো বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন।
পিএইচডি নিয়েই তিনি বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে যোগদান করেন এসিস্টান্ট প্রফেসার হিসাবে।
অতঃপর, আর হার না মানার গল্প।
ছবির ডিম ভাজতে থাকা আজকের এই ভদ্রলোক কিন্তু দিনের অর্ধেক সময়ে মাথাব্যাথায় আক্রান্ত থাকেন। যার জন্য তাকে সেই সময়টুকু শুধুমাত্র আল্লাহপাকের জিকির করে কাটাতে হয়।
এবং দিনের বাকি অর্ধেক সময়ে তাকে কাটাতে হয় ফাইন্যান্স/ইকোনমিকস এর প্রফেসর হিসেবে হার্ভাড ইউনিভার্সিটিতে, বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে ও সাউদার্ন নিউ হ্যাম্পশায়ার ইউনিভার্সিটিতে।
জ্বি, গল্প বলছিলাম প্রফেসর ড: শেখ আব্দুল হামিদের। যিনি বাবলু ভাই নামে সব এক্স ক্যাডেটদের কাছে পরিচিত।
যিনি একই সাথে বিশ্বসেরা তিনটা ইউনিভার্সিটির রেগুলার প্রফেসর ও বোস্টন ইউনিভার্সিটির ডীন।
প্রতিবছর দুইবার করে দেশে আসেন। দেশে এসেই গেস্ট লেকচার হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ তে, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে, আর্মির স্টাফ কলেজে, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে।
তিনি Old Rajshahi Cadets' Association ( ORCA) ও এর USA শাখার এর একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
হামিদ ভাইয়ের আরেকটা পরিচয় আছে, যেকোনো সময়ে যেকোনো মানুষের বিপদের সময়ে উনাকে পাশে পাওয়া যায়। সেটা হোক ঘুর্ণিঝড় আক্রান্ত মানুষের পাশে, বা কোনো এতিম মানুষের পাশে, বা #JFWBD এর নির্যাতিত নারীর পাশে। বহু দরিদ্র মেধাবী ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন উনি। সব নিরবে নিভৃতে।
কত মানুষ যে নীরবে নিভৃতে তার সাহায্য পেয়েছে, এইটা মেবি আল্লাহ ছাড়া কেউই জানে না।
আমি যদিও ক্যাডেট না, তারপরেও আমার কাজ করার ইচ্ছা ও স্পৃহা দেখে উনি যেভাবে স্নেহের ছায়া আমার উপর ও আমার সন্তানস্বরুপ এই ফাউন্ডেশন এর উপর ছায়া হিসেবে আছেন, আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। যে আমার মত একটা মানুষকে গাইডেন্স দেয়ার জন্য হামিদ ভাইকে পাঠিয়েছেন।
হামিদ ভাই শুধু ব্যক্তি কুঞ্জর জীবনে মাথার উপর ছায়া না, আমার অনেক বড় অনুপ্রেরণা উনি। উনি আমাদের ফাউন্ডেশন HelpAid Foundation এর একজন উপদেষ্টা ও আমাদের এই Justice For Women, Bangladesh - JFWBD গ্রুপের একজন উপদেষ্টা। উনি প্রতিটা সময়েই এই গ্রুপের সব ভিক্টিমদের পোস্ট দেখেন ও আমাকে উপদেশ দেন কিভাবে কি করতে হবে।
জাতির ৯৯.৯৯% মানুষ এই ভদ্রলোককে চিনে না কেন জানেন?
কারন উনি তথাকথিত টকশোতে যান না, বা বার বার টিভিতে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান না।
উনার সম্পর্কে বলতে গেলে শেষ হবে না। He is a living legend and pride of our country. বলা হয়ে থাকে, বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থিত সবথেকে প্রভাবশালী বাঙ্গালী আমাদের হামিদ ভাই। কিন্তু তিনি থাকেন লোকচক্ষুর অন্তরালে।
হামিদ ভাই দেশে আসবেন এই আগস্টে। আমি, জিম আর আমার ফাউন্ডেশন এর ইসি কমিটির সদস্যরা অধীর আগ্রহে আছি উনার জন্য।
সবাই হামিদ ভাইয়ের জন্য দু'আ করবেন। আল্লাহপাক যেন তাকে দীর্ঘজীবী করেন।

( লেখাটি মূলত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিশুরোগ বিভাগের অধ্যাপক Tablu Abdul Hanif স্যারের ওয়াল থেকে বাংলায় ভাবানুবাদ করা। স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ হামিদ ভাইকে নিয়ে এই অসাধারণ পোস্টের জন্য। স্যারের মূল পোস্টের লিংক -
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10155235581715196&set=a.10152345162660196.1073741826.694340195&type=3&theater

এমএসএল/ ০৩ জুলাই ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।