রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় প্রক্টরকে শিক্ষকদের স্মারকলিপি


রাবি টাইমস
Published: 2018-03-12 04:06:28 BdST | Updated: 2018-12-16 04:02:44 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংস্কৃতিকর্মী এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মইনুল ইসলামের ওপর আঘাতকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মলয় কুমার ভৌমিক ও দর্শন বিভাগের শিক্ষক এস.এম.আবু বকর।

রোববার (১১ মার্চ) বিকাল সাড়ে তিনটায় প্রক্টর বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। প্রক্টর না থাকায় প্রক্টরের দপ্তর থেকে এই স্মারকলিপি গ্রহন করা হয়েছে বলে জানা যায়।

অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক ও এস.এম আবু বকর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ আছে: মইনুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে কোনো প্রকার পদক্ষেপ আসেনি। আপনারা অবগত আছেন যে, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের আগের দিন যদি এমন ঘটনা ঘটে তবে এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তন সমাগত। আমরা মনে করি, এ ধরনের ঘটনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার অভিসন্ধিমূলক লুকিয়ে আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে এক শ্রেণির উগ্রবাদী যুবক মুক্তমনা মানুষের ওপর অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এসব ঘটনায় এই ক্যাম্পাসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকে জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকে এবং এ প্রবণতা ক্রামাগত বেড়েই চলেছে। যুবসমাজের এই মানসিকতার পরিবর্তনে আজ যখন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রধান ভরসা, তখন সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর আঘাত করে কেউ পার পেয়ে গেলে, সাংস্কৃতি চর্চায় কেউ আর উৎসাহিত হবে না। শিক্ষা মানুষকে সংস্কৃতিমনা করে তোলে। সে জন্য শিক্ষা ও সন্ত্রাস হাতধরাধরি করে চলতে পারে না।’

স্মারকলিপিতে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানায় তারা।

এ বিষয়ে মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, ‘আমরা অন্য কোনো সংগঠন বা পক্ষ থেকে নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী শিক্ষক হিসেবে নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পাঠায় পড়াশোনা করার জন্য তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা না দিতে পারলে অধ্যাদেশে বর্ণিত দায়িত্ববোধরই বা দরকার কী?’

গত ৬ মার্চ সন্ধ্যায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং অনুশীলন নাট্যদল কর্মী মইনুল ইসলামকে মমতাজউদ্দিন কলাভবনের সামনের চায়ের দোকানে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী মারধর করে। এরপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) ৮ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ঘটনার জেরে ৮ মার্চ সকালে অনুশীলন নাট্যদল প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

শনিবার এ হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট।

এসজে/ ১২ মার্চ ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।