বাসভবনে হামলাকারীরা বহিরাগত: ঢাবি ভিসি


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-04-09 05:02:35 BdST | Updated: 2018-09-19 00:30:06 BdST

মুখোশধারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘যারা আমার বাসভবনে হামলা চালিয়েছ, তারা মুখোশ পরা ছিল। তাদের দেখে মনে হয়নি যে তারা ঢাবির শিক্ষার্থী। তার ভবনের প্রতিটি কক্ষে তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। বাসভবনে আগুন দিয়েছে। তারা জানালা ও দরজা ভাঙচুর করেছে। যারা এখানে হামলা করেছে তারা সন্ত্রাসী, শিক্ষার্থী হতে পারে না। হামলাকারীরা বহিরাগত।’

Caption

রবিবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ করলে তারা ঢাবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। পরে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে উপাচার্যের বাসভবনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে একটি গাড়িতে আগুন দেন। তারা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে ওই বাসভবনের বেশ কয়েকটি জানালার কাঁচ ভেঙে যায়।

পরে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘আমি তাদের (আন্দোলনরত শিক্ষার্থী) বলেছি, আমি তোমাদের সঙ্গে কথা বলবো, তোমাদের সঙ্গে যাবো। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি। আমার পরিবারও বাসভবনের ভেতরে ছিল। আমি শেষ পর্যন্ত ভবনের ভেতরেই ছিলাম, কোথাও যাইনি। তারা আমার ও আমার পরিবারের সামনেই তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে।’

Caption

ড. আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, ‘কোটা সংস্কারের আন্দোলন শিক্ষার্থীরা করছে, আমি এই কথা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েছিলাম। সরকারের সঙ্গে আমার কী কথা হয়েছে, সেটাও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জানিয়েছি। সরকারও তাদের এই দাবি বিবেচনায় রেখেছে। আমি আজকে ধৈর্য নিয়ে পরিস্থিতির মোকবিলা করেছি। আমি যদি তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতাম, তাহলে আরও বড় ম্যাসাকার হতো। সেটা আমি চাইনি, কারণ আমি একজন শিক্ষক। আমি সেটা করতে পারি না।’

উপাচার্য বলেন, ‘আন্দোলনের সময় একজন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার গুজব ছড়ানো হয়েছে। আসলে এমন কিছুই ঘটেনি। বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রীরা বের হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখাও আমাদের দায়িত্ব।’

উল্লেখ্য, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রবিবার দুপুর ২টায় শাহবাগে অবস্থান নেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। রাত পৌনে ৮টার দিকে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে তারা ঢাবি ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। পরে তারা ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সোমবার সকাল ১১টায় সরকারের বৈঠকের প্রস্তাব দেন। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা টিএসসির ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ সময় ঢাবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট দখলে নেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত টিএসসিতে আটকা পড়া আন্দোলনকারীদের বের করে নিয়ে আসছেন ঢাবি প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী।

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।