ঢাবিতে ছাত্রলীগের ‘সশস্ত্র’ অবস্থান, উত্তেজনা


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2018-04-09 22:11:05 BdST | Updated: 2018-04-24 16:50:44 BdST

চাকরিতে বর্তমান কোটা পদ্ধতি ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সরকারের অস্পষ্ট আশ্বাসে’ আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত মানছেন না আন্দোলনকারীরা। এ নিয়ে তাদের মাঝে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের চারপাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। রামদা, রড, লোহার পাইপ ও হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে মল চত্বরে অবস্থান নিতে শুরু করেন তারা।

হামলার আশঙ্কায় ইট-পাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের চারপাশে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে দু’পক্ষের মধ্যে যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। হামলা হলে তারা তা প্রতিহত করবেন।

এবিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সচিবালয়ে সোমবার (০৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বৈঠকে আন্দোলন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয় থেকে পরিষদের ১৯ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসেন। এ সময় সেখানে সাধারণ আন্দোলনকারীরা জড়ো হন।

পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানোর পর ‘ভুয়া মানি না মানব না’ স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষুব্ধ সাধারণ আন্দোলনকারীরা।

এতে পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের সিদ্ধান্ত না মানেন তাহলে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সরে যাব। এক মাসে প্রধানমন্ত্রী দুইবার দেশের বাইরে থাকবেন, ক্যাবিনেট মিটিংয়ে আলোচনাটা দেরি হবে বিধায় এক মাস পেছানো হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে দাবি আদায়ে কার্যকরী সিদ্ধান্ত না হলে প্রয়োজনে আগামী ৭ মে ফের আন্দোলন।’

সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামী মাসে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ও রোজা। এই পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে মুলো ঝুলিয়েছে সরকার। আমরা এ সিদ্ধান্ত মানি না। অন্তত কোটা সংস্কারের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

এরপর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি মোড়, শাহবাগ মোড়, সব হলের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। রোকেয়া হলের সামনে লাঠি হাতে অবস্থান নেন ছাত্রীরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নিয়ে তাদের থামাতে চেয়েছিল সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কিন্তু আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ধাওয়া দেন। ধাওয়া খেয়ে মলচত্বরে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। পরিস্থিতি এখনও থমথমে। যে কোনো সময় সংঘর্ষ বাধতে পারে।

এমএস/ ০৯ এপ্রিল ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।