বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষার্থীদের মার্কিন অধ্যাপকের পরামর্শ


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-05-26 19:53:48 BdST | Updated: 2018-08-14 21:47:19 BdST

ক্তরাষ্ট্রের হাউসটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেইথ এম পারসন। সম্প্রতি নিজের কর্মস্থলে শিক্ষার্থীদের প্রথম ক্লাসে একটি বক্তৃতা দিয়েছেন তিনি। বক্তৃতায় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের পার্থক্য তুলে ধরেছেন পারসন। সেই বক্তৃতাটি প্রিয়’র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল। ............................................................................

উচ্চ শিক্ষায় তোমাদের সবাইকে স্বাগত। তোমরা যদি এখানে সফল হতে চাও তবে কিছু বিষয় জানতে হবে। প্রথমেই তোমদের জানা উচিত, তোমাদের পূর্বতন আর বর্তমান শিক্ষায় সহায়তাকারী নির্দেশকদের মধ্যেকার পার্থক্যটি। আমি তোমাদের অধ্যাপক, শিক্ষক নই। এটাই পার্থক্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগ পর্যন্ত তোমাদের নির্দেশনা ছিল তোমাদের শিক্ষদের হাতে এবং তাদের কাজ ছিল তোমরা যে শিখছো সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। তোমরা কী শিখছো সে বিষয়টি পরীক্ষার মাধমে মূল্যায়ন করা।

যদি তোমরা না শিখতে তবে তোমাদের শিক্ষকদের ঘাড়ে সে দোষ চাপানো হতো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি ভিন্ন। তোমরা কিছু শিখলে কীনা সে বিষয়টির নজরদারির কিংবা নিশ্চিত করা আমার কাজ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাটা তোমার একান্তই ব্যক্তিগত এবং এটা তোমারই বিষয়। আমার কাজ হচ্ছে তোমাদের জ্ঞানের সাগরের সন্ধান দেয়া।

সে সাগরে তুমি ডুব দিলে কিংবা ভেসে থাকলে সে বিষয়টি তোমার একান্তাই ব্যক্তিগত। এখানে আসার আগে তোমরা যদি অকৃতকার্য হতে তবে তোমাদের শিক্ষকদের দোষ দেয়া হতো এবং তাদের থেকে এমন আশা করা হতো যে তোমাদের ফলাফল খারপ না হয় সে বিষয়টির জন্য তিনি যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমরা যদি অকৃতকার্য হও সে বিষয়টির জন্য আমি মোটেই দায়ী হবো না। তোমার ফলাফল খুব ভাল হোক কিংবা তুমি অকৃতকার্য হও; তার উপর নির্ভর করে আমার বেতন কমবে না।

তোমাদের অভিভাবকদের সাথে আমি কতবার বসেছি, তা জানতে আমার বিভাগীয় প্রধান আমাকে ডাকবেন না। তোমারা যেহেতু এখন পূর্ণবয়স্ক সুতরাং তোমাদের গোপন বিষয় কাউকে জানানো বেআইনী। তোমরা পাস করলা কিংবা ফেল করলা সে বিষয় নিয়ে আমার কোন দায়িত্ব নেই। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রাচীনতাকেই আমলে নিয়ে থাকে এবং প্রাচীনপন্থা এখানে ‍উপেক্ষিত নয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তোমাদের শিক্ষা ছিল পরীক্ষা-প্রস্তুতির জন্য। তোমাদের শিক্ষকদের শিক্ষা দেয়ার অনুমতি দেয়া হতো না তবে তাদের দায়িত্ব ছিল পরীক্ষার জন্য তোমাদের প্রস্তুত করা। তবে এক্ষেত্রে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চূড়ান্ত স্বাধীনতা ভোগ করি।

অ্যাকাডেমিক পরিসরটা নির্ধারিত হয় আমাদেরই হাতে। কী পড়ানো হবে, কী কী বিষয় আলোচ্য হবে, বক্তৃতা আর আলোচনার মধ্য দিয়ে তা আমরাই নির্ধারণ করি। সম্প্রতি ফ্লিপড লার্নিং বিষয়টি বেশ নজর কেড়েছে। আমরা বয়স্ক অধ্যাপকরা মনে করি আমাদের উচিত স্টেজে মহাজ্ঞানীর মত জ্ঞান না দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে তাদের নির্দেশক হয়ে থাকাটা বেশি কাজের। আমাদের কাজ, তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। আমরা যেভাবে লেকচার দেই সেটা বর্তমান তরুদের কাছে তেমন একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না, যাদের মস্তিস্ক ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যেই একাধিক চিন্তায় মোড় নেয়।

আমাদেরও বোকার মত তাদের কাছ থেকে মনোযোগ পাওয়ার বিষয়টি আশা করা উচিত নয় তবে মনোযোগ বাড়ানোর কৌশল শিখিয়ে জ্ঞানের প্রতি তাদের তৃষ্ণার্ত করে তোলা উচিত। আসলেই তোমাদের মনোযোগী হওয়া উচিত। তবে মনযোগের বিষয়টি এমন নয় যে এক কান দিয়ে শুনলাম আরেক কান দিয়ে বের করে দিলাম। যেরকমটি টিভি দেখার সময় হয়ে থাকে। তোমাদের চর্চা করা উচিত চিন্তাশীল মনোযোগ কী করে নিজের মধ্যে রপ্ত করা যায়।

চিন্তাশীল মনোযোগ বলতে বোঝায়, তুমি কেবল শুনছ না বরং শোনার পাশাপাশি চিন্তাও করছো। সর্বশেষ বিষয়টি হচ্ছে, তুমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করছো তখন এক চিন্তায় সেটাকে বলা যায় তুমি অন্য একটি দেশে যাচ্ছো যেখানকার সমাজের রীতিনীতি এবং সংস্কৃতি সম্পূর্ণই ভিন্ন। আমি বুঝতে পারছি আমার এবং তোমাদের মধ্যে সবচে বড় পার্থক্য হচ্ছে সংস্কৃতিগত পার্থক্য। আমি পুরাতন শিক্ষাপদ্ধতির সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে আছি। অপরদিকে তোমরা এমন সংস্কৃতি বহন করছো যেটা সম্পূর্ণই ভিন্ন। তোমাদের অধ্যাপক এবং তোমাদের মধ্যে পার্থক্যটি হচ্ছে- তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখো যোগ্যতা কিংবা সার্টিফিকেট অর্জনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে।

অন্যদিকে তোমাদের অধ্যাপকদের কাছে সার্টিফিকেটটি মূল কোন ইস্যু নয়। তুমি যদি বিশ্ববিদ্যালয়কে সার্টিফিকেট অর্জনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখো তবে তা তোমার সত্যিকারের উচ্চশিক্ষার পথে বাধা সৃষ্টি করবে। তোমার সব অধ্যাপকের কাছেই তোমার কোনো একটা কোর্সের মানে তোমার জগতকে সমৃদ্ধ করা। নিজেকে আত্মশক্তিতে বলিয়ান করা। সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।