টিএসসির ইফতারে প্রাণবন্ত তারুণ্য


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-05-26 20:14:01 BdST | Updated: 2018-06-18 17:38:02 BdST

লালচে ইটের ভবনের মাঝখানে এক চিলতে সবুজ! দেখতেই অসাধারণ লাগে। বিকাল গড়তেই সবুজ ঘাসের উপর গোল হয়ে বসছেন তরুণ-তরুণীরা। হাতে হাতে নানা পণ্যের ঠোঙা, পত্রিকা, পানির বোতল। সন্ধ্যা যতই ঘনিয়ে আসছে বাড়ছে তরুণ-তরুণীদের পদচারণা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সবুজ মাঠের চিত্র এটি। পবিত্র রমজান মাসে এখানে শতাধিক তরুণ-তরুণী বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ইফতারি করতে এখানে আসেন।

দল বেধে ইফতার আর আড্ডাবাজি চলে। টিএসসির সবুজ মাঠে প্রতিদিন খোলা আকাশের নিচে আড্ডা-গল্পে মেতে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রমজান মাসে মাঠে দেখা যায় অন্যরকম এক চিত্র। মাঠের ভিতরে ছোট ছোট দলে গোল করে বসেন সবাই। কোনোটিতে তিনজন আবার কোনোটিতে ত্রিশ। সামনে রাখা বাহারি রকমের ইফতার সামগ্রী। সন্ধ্যা নামার আগে সমাগম ঘটে এ রকম শতাধিক দলের। সবার উদ্দেশ্য সারা দিনের সিয়াম সাধনার পর বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আনন্দে ইফতার করা। আয়তনের তুলনায় জনসমাগম বেশি হওয়ায় অনেকে বসে পড়েন ভিতরে এবং বাইরের করিডোরে। সব মিলিয়ে ইফতারের আগে পুরো এলাকা পরিণত হয় তরুণ্যের মিলনমেলায়।

উৎসবমুখর হয়ে ওঠে এখানকার পরিবেশ। এখানে ইফতার করতে আসা বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী। আসে বিভিন্ন হল ও বিভাগের প্রাক্তনরাও। আয়োজনে টিএসসিকেন্দ্রিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও এলাকাভিত্তিক সংগঠনের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। অনেকে এ মিলনমেলায় যোগ দেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। বিকাল নামার আগেই শুরু হয় মাঠে জায়গা রাখার প্রতিযোগিতা। সবুজ ঘাসের ওপর ইফতারি নিয়ে বসে পড়েন সবাই। মাঝখানে সাজিয়ে রাখা হয় নানা রকমের ইফতারি। পত্রিকা বিছিয়ে চলে বিভিন্ন আইটেম মাখানোর কাজ। ইফতারের এ আয়োজনে থাকে মুড়ি, ছোলা,খেজুর, জিলাপি, বেগুনি, পিঁয়াজু, চিকেন, পাকুড়া,বুরিন্দা আলুর চপ ইত্যাদি। থাকে বিভিন্ন রকমের পানীয়, জুস, কলা, আপেলসহ নানা জাতের ফল। জনপ্রতি চাঁদা তুলে চলে ইফতারের এ আয়োজন।

আবার অনেক ছাত্রী হল থেকে রান্না করে নিয়ে আসেন বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়াতে। ইফতার শেষে চলে চুটিয়ে আড্ডা। বন্ধুদের সাথে খোলা আকাশের নিচে ইফতারের এ আয়োজন যেন তাদের আড্ডার আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের শিক্ষার্থী আল মঞ্জুর এলাহী বলেন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে একত্রে ইফতার করার মজাই আলাদা। ইফতার শেষে গল্পে গল্পে সময় কাটাই। ইফতার উপলক্ষে সন্ধ্যা নাগাদ মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে টিএসসি এলাকা।

টিএসসিতে ইফতার 

সড়কদ্বীপ, মিলন চত্বর, হাকিম চত্বর, রোকেয়া হলের সামনে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকসহ আশপাশের এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা বয়সের মানুষও আসেন এসব জায়গায় ইফতার করতে। ইফতারের এ মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে টিএসসির আশপাশে রমজান মাসে গড়ে ওঠে প্রায় ২০টি অস্থায়ী দোকান। দুপুর থেকেই ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। রমজানে সকালে বেচাকেনা না হলেও দুপুর থেকে শুরু হয় তাদের ব্যস্ততা। সন্ধ্যা যত ঘনিয়ে আসে তাদের যেন দম নেওয়ার সুযোগ থাকে না। দোকানগুলোতে ভিড় জমায় অসংখ্য ক্রেতা। ইফতারের সময় হওয়ার আগেই বিক্রি হয়ে যায় ইফতার সামগ্রী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যের সমাহার বিদ্যমান। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে পড়তে আসেন এ সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে। দেশের সব ধরনের সংস্কৃতি লক্ষ্য করা যায় এখানে। রমজানে ইফতার উপলক্ষে এসব বিষয় সবচেয়ে বেশি করে ফুটে ওঠে। ইফতারে যোগ দেয় সবাই। বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীরাও বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেন নিত্যদিনের এ ইফতার আয়োজনে। ইফতারকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের মিলনায়তনগুলোও সরগরম থাকে সর্বদা। সবচেয়ে বেশি জমে ওঠে শুক্রবার ও শনিবার। ছুটির দিন থাকায় অনেকেই পরিবারসহ সময় কাটাতে আসেন এখানে। ফলে এদিন সন্ধ্যায় যেন বসে ইফতারের মহামেলা। রমজান মাসে টিএসসির মনোমুঙ্কর এ দৃশ্য চিরচেনা। তাই বিভাগ, হল কিংবা এলাকার বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিতে হলে প্রথমেই হৃদয়ের মণিকোঠায় ভেসে উঠে টিএসসির নাম।

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।