চাপা ক্ষোভ ও আতঙ্ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-07-11 11:21:35 BdST | Updated: 2018-11-16 12:31:07 BdST

গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সরকারি চাকরিতে বৈষম্য নিরসনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ঢাবি ক্যাম্পাস থেকেই।অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার হচ্ছেন ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠ আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই এখন ক্যাম্পাসে আসতে ভয় পাচ্ছেন।আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এক সময় সংহতি প্রকাশ করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও হয়ে ওঠেছে তাদের প্রতি বৈরি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবস্থান ও কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে তাও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ভয়ের কারণ বলে মনে করছেন তারা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন এই সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের টার্গেট করে। সবমিলিয়ে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন অস্বাভাবিক।

মুক্তবুদ্ধি অ সংস্কৃতি চর্চার জন্য খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবার জন্যই সবসময় উন্মুক্ত। হঠাৎ করে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিধি-নিষেধ সহজভাবে নিতে পারেনি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা মনে করছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে মোড় নিয়ে দমিয়ে রাখার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে উদার ও অসম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির ধারক-বাহক হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের অন্য একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে মৌলবাদের কালো থাবা দূষিত করলেও ঢাবি সর্বদাই ছিল সেই প্রভাবমুক্ত। অথচ বৈষম্য নিরসনে একটি যৌক্তিক আন্দোলন করতে গিয়ে ঢাবির মেধাবী শিক্ষার্থীদের এখন জঙ্গি অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রকাশ করে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ছাত্র ইমতিয়াজ রহমান বলেন, আমরা কোটা সংস্কারের পক্ষে। এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় আমাদের একমাত্র অপরাধ। এখন আমাদের ক্যাম্পাস ছাড়ার উপক্রম হয়েছে। একদিকে সরকারি ছাত্র সংগঠনের হামলা, আর অন্যদিকে প্রশাসনের মামলা। এরই মধ্যে যিনি আমাদের অভিভাবক সেই ভিসি স্যার অান্দোলনকারী অর্থাৎ আমাদের জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আমাদের আশ্রয় নেওয়ার কোনো জায়গাই আর রইলো না।

ঢাবি'র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকততা বিভাগের ছাত্রী অনন্যা আহমেদ বললেন, এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি মধ্যে আমরা আছি। বাসা থেকে ক্যাম্পাসে আসাকে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে। তাদের অনেক কষ্টে বুঝিয়ে শুনিয়ে প্রবোধ দিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। তবে স্বস্তিতে থাকতে পারে না পরিবার। দেশের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠে যখন আসি বাসা থেকে একটু পরপর খবর নেয়া হয় কেমন আছি। কতটুকু নিরাপত্তাহীনতায় আমরা ভুগি। কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতরে এসে শিক্ষার্থীদের হামলা করে। কোনোকালেই এটা হয়নি। কিন্তু পরিস্থিতি আজ এমন হয়েছে সব কিছু মেনে নিতে হচ্ছে।

বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষার্থী আজহার মামুন বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা আসবেই। অরক্ষিতভাবে এটা কখনই বন্ধ করা যাবে না। আর শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন করবে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিলেই আর আন্দোলন হবে না। ব্যবসা অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী নাফিস বলেন, এটা খুব স্বাভাবিক। সবাই বুঝে কেন এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে আমরাও।

অর্থনীতির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সায়েমা মাহমুদ বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে অন্য দিকে মোড় নিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এমন ক্যাম্পাসে এটা কেউ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের নিয়ে ভিসি যে মন্তব্য করেছেন এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। কারণ কোটা সংস্কারের পক্ষে বিপক্ষে যারাই আছে সবাই ভিসি স্যারের শিক্ষার্থী। আলাদা করে দেখার কোনো প্রয়োজন নাই। আর স্যারের এ ধরনের মন্তব্যে তিনি নিজেই সমালোচিত হচ্ছেন। যদি ডাকসু থাকতো তবে এই ভিসির প্রত্যাহার চাওয়া হতো।

এদিকে সরেজমিনে ঢাবি ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মঙ্গলবারও ঢাবি এলাকায় সব ধরনের যানবাহন ও বহিরাগতদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।আইনশৃ্ঙ্খলাবাহিনীর তল্লাশি ছাড়াই লোকজন-যানবাহন অবাধে যাতায়ত করতে পারছেন।নানা শ্রেণি পেশার মানুষ টিএসসিসহ ক্যাম্পাসের সর্বত্রই ঘোরাফেরা করেছেন নানা কাজে।

শাহবাগ থানা এলাকায় অবশ্য পুলিশের প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতোই। জলকামান, সাজোয়াঁ যান, একাধিক পুলিশ ভ্যান সারি করে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। এমনকি টিএসসি এলাকায়ও পুলিশের দুটি ভ্যান দেখা যায়।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।