'বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত' কীভাবে প্রয়োগ করা হবে?


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-07-11 23:28:32 BdST | Updated: 2018-07-17 02:12:34 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যে নামের সাথে মিশে আছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম ইতিহাস। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে দেশের বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবি, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি পেশার বিখ্যাত বহু জ্ঞানী-গুণী মানুষের জন্ম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। ‘বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রশ্নে’ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই প্রথম ‘না’ ধ্বনি উচ্চারণ করেছিল।

‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ প্রতিষ্ঠার পর ‘বাংলা ভাষার রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও এ বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত দেশের যে কোন প্রয়োজনে এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরাই সবার আগে আওয়াজ দিয়েছে, দাবি তুলেছে। এই ক্যাম্পাস থেকেই প্রথম স্লোগান দিয়েছে, সে স্লোগানে কণ্ঠ মেলাতে ছুটে এসেছে দেশের নানা প্রান্তের মানুষ। সেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সম্প্রতি বাইরের মানুষ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

এ বিষয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স এখন ৯৮ বছর। এটি একটি উন্মুক্ত ক্যাম্পাস। এখানে ছেলে-মেয়েরা স্বাধীনভাবে বিচরণ করবে, বাইরের ছেলে-মেয়েরা আসবে, বিভিন্ন শ্রেণি গোষ্ঠীর মানুষ আসবে। সর্বস্তরের মানুষের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত থাকবে, এই চরিত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে। হঠাৎ করে বহিরাগতদের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, এটা কী কারণে করা হল? কীভাবে এটা প্রয়োগ করা হবে? সেটা বুঝতে পারছি না।"

এক সময় ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা এই শিক্ষক বলেন, "বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শহরের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝ দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ শহরের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যাতায়াত করে। পাবলিক কতগুলো সড়ক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দিয়ে গেছে। এসব সড়ক দিয়ে তো মানুষজন যাতায়াত করবেই। কেউ পায়ে হেটে যাবে, কেউ বাসে যাবে, সে ভাবেই যাচ্ছিল।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আরেফিন বলেন, "সার্বিকভাবেই আমি বুঝতে অপরাগ যে, বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচরণ ও ঘোরাফেরা নিষিদ্ধ করার বিষয়টা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হয়ত জানাবে, কীভাবে এটা প্রয়োগ করবে। তবে এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এতদিনকার যে চরিত্র সেটার সঙ্গে খাপ খায় না।"

শিক্ষার্থীদের কার্যক্রমকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের ‘মত’ বলে বর্তমান ২৮তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান যে মন্তব্য করেছেন সে বিষয়ে ২৭তম উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, "এটা একটা গুরুতর অভিযোগ। এর পিছনে যদি কোন প্রমাণ থাকে, সে প্রমাণ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এটাই এখনকার দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদেরকে এভাবে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নত করা, এটা তথ্য প্রমাণ ছাড়া তো করা সম্ভব না। তথ্য প্রমাণগুলো যদি থাকে সেটা প্রদান করা এখন দায়িত্ব।"

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।